মেইন ম্যেনু

“আমার চোখের সামনেই স্ত্রীকে নিয়ে সে অশালীন ভাবে ঘুরতো…”

“আমি তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি। এলাকার একটা ছেলে আমাকে ভালোবাসত। প্রথম প্রথম আমি ওকে ভয় পেতাম কারণ ও একটু বখাটেও ছিল। কিন্তু দিন দিন আমার প্রতি ওর আগ্রহ দেখে আমিও তাকে ভালোবাসা শুরু করি। অবশেষে আমরা বিয়েও করি।

তখন আমি এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেব। ও আমাকে ওদের বাসায় নিয়ে তোলে। অনেক ঝামেলার পরও সবাই মেনে নিল। বেশ ভালোই ছিলাম। কিন্ত ও অনেক রাগী আর সন্দেহ প্রবন ছিল। অকারণেই প্রায় প্রায় মারতো আমাকে। ওরা অনেক বড়লোক। তাই আমাকে মন থেকে মেনে নেয়নি। অনেক অত্যাচারিত হয়ে ২ বছর পর ২০০৯ সালে ফিরে আসি বাড়ি। আমার পরিবার নারী নির্যাতন কেইস করে। কিন্তু টাকার জোরে ওরা জিতে যায়। ২০১১ সালে ওর বাবা খুব ধুমধাম করে বেকার ছেলেকে আবার বিয়ে দেয়। আমার চোখের সামনে ও বউ নিয়ে অশালীন ভাবে চলতো।

যাই হোক, ২০১২ সালে আমার একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে। তখন আমি অনার্স ২য় বর্সে পড়ি। আমার মা তখন শয্যাসয়ী। মোটামুটি খোঁজ খবর নিয়ে বিয়ে হয় দ্বিতীয় বার। বিয়ের পর পরই গর্ভবতী হই। আমাকে শ্বশুর বাড়ি তুলে নেয়নি। লোকটা বিদেশ ছিল ১০ বছর। আমার একবার বিয়ে হয়েছে বলে আমি তার মত মানুষকে মেনে নিই যে আমার অযোগ্য। আমার একটা মেয়ে হল। দশ দিন পর আমার মা মারা গেলেন। তার তিন দিন পর এক মেয়ে ফোন করে বলে,সে আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী। আমাকে বিয়ের ৫ মাস আগে তাঁকে বিয়ে করেছিল। তাঁরও ছেলে হয়েছে। আমার মেয়ের ২৫ দিনের বড়।

ঐ বউয়ের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিলনা। বাপের বাড়ি বেশি থাকতো। এই সুযোগে আমার পরিবারকে তারা বুঝিয়েছে সে অবিবাহিত। খুব কায়দা করে আমাকে দেখতে আসার নাম করে কলমা করে গেল ওরা। আমার কাছে খুব কম আসত। খুব ব্যস্ততা দেখাত। মেনে নিলাম ভাগ্যকে। কোন প্রতিবাদ করি নি। তারপরও দিনের পর দিন আমাকে আর আমার সন্তানকে ঠকিয়েছে। খুব মন খারাপ থাকতো। একটা ভাই আমার,দূরে থাকে।

বান্ধবীর পরামর্শে ফেইসবুক আইডি ওপেন করি। কোন দিন ছেলেদের সাথে মিশি নাই। প্রথম প্রথম চ্যাট করতে আনইজি লাগতো। ফেইসবুক ওপেন করার ৫ মাস পর এক জন আমাকে ভিষণ পছন্দ করলো। কিন্তু আমি পাত্তা দিতাম না। কারণ সে প্রবাসী। সে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। তখন আমি তাকে সব বুঝিয়ে বললাম। সে সব শুনেও আশা করে থাকলো। তার ছবি দেখা আর মোবাইলে কথা বলার বেশি কিছুই আমি জানিনা। এক দিকে বাবার আর্থিক সমস্যা। অন্য দিকে স্বামী কোন খোঁজ করেনা। তাই রাগ করে আমার স্বামীকে কাছে আসতে মানা করি। আর নতুন করে যে আবার আমি কাউকে ভালোবাসি সেটাও একটা কারণ। সব কিছু জানার পর ঐ প্রবাসী আমার পাশে আছে। সব থেকে বড় কথা সে আমাকে অনেক আর্থিক সহযোগিতা করেছে। টিউশনি করে আমি সব খরচ বহন করতে পারিনা। তার টাকায় আজ আমি মাস্টর্স শেষ করেছি। এখন জবের জন্য চেষ্টা করছি। আমার মেয়ের জন্যও সে মাসে ৩০০০ টাকা পাঠায়।

অনেক বুঝিয়েছি মানুষটাকে কিন্তু সে বলে,আমি কর্মশীল একটা ছেলে। সবার মতামত নিয়েই তোমাকে আমি বিয়ে করবো। তার মধ্যে এখনও আমি অশালীনতা মূলক কিছু পাই নাই। এই প্রবাসীকে আমি ভালোবাসি। কিন্তু দুইটি বিয়েতে প্রতারিত হবার পর এখন খুব ভয় হয়। কী করা উচিৎ এখন আমার?”

পরামর্শ:

আপনার চিঠি থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার না আপু, দ্বিতীয় স্বামীর সাথে আপনার ডিভোর্স কি কাগজে কলমে হয়েছে, নাকি এমনিতেই কেবল আলাদা থাকছেন। দ্বিতীয়ত, আপনার মেয়ের বয়স এখন কত আর তৃতীয় প্রেমিকের সাথে আপনার সম্পর্ক কত বছর যাবত চলছে? আপনি কি তাঁকে বাস্তবে বা স্কাইপিতে দেখেছেন? এত বছরে কি তিনি একবারও দেশে আসেন নি?

যাই হোক, সবচাইতে বড় সত্যি কথা এই যে আপু জীবনে দুইবার দুটি দুর্ঘটনা ঘটার পর আসলে সতর্ক হওয়াই উত্তম। কারণ তৃতীয়বারও যদি একই দুর্ঘটনা ঘটে, তখন আর নিজেকে সামলে নিতে পারবেন না। আপনি যেমন লিখেছেন যে ছবি দেখা আর মোবাইলে কথা বলা ছাড়া আপনি কিছু জানেন না, এভাবে সম্পর্ক রাখলে ব্যাপারটা আসলে খুবই রিস্কি হয়ে যায়। আপনি যা করবেন আপু, ডিভোর্স না হয়ে থাকলে প্রথমেই ডিভোর্সের ব্যবস্থা করুন। কারণ আমার মনে হয় না একজনের সাথে সম্পর্ক শেষ না করে আরেকজনের সাথে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ।

এরই মাঝে নিজের জবের জন্যও চেষ্টা করতে থাকুন। একটি ভালো চাকরি খুঁজে নিয়ে নিজেকে সেটল করুন যেন কারো ওপরে আপনাকে নির্ভর করতে না হয়। ভদ্রলোক বিপদের দিনে আপনাকে সহায়তা করেছেণ, সেটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু আপু, একটু বাস্তববাদীও হতে হবে। তিনি হয়তো আপনাকে ভালোবাসেন, কিন্তু তাঁরও এক বা একাধিক অতীত থাকতে পারে যা আপনার জানা উচিত। তাই আমি মনে করি মানুষটার কাছ থেকে তাঁর ঠিকানা ও পরিবারের পরিচয় সহ বিস্তারিত তথ্য নিন। এবং তারপর ভালো করে খোঁজ লাগান। কেননা অনেক প্রবাসীই আছেন যারা দেশে স্ত্রী-পরিবার রেখে গিয়ে বিদেশে একাকীত্বে ভোগেন ও ফোনে ফোনে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে যান।

প্রবাসী ভদ্রলোক সম্পর্ক খোঁজখবর করে যদি আপনি ও আপনার পরিবার সন্তুষ্ট হতে পারেন, কেবল তখনই তাঁকে বলুন দেশে আসতে এবং তাঁর পরিবারের সাথে কথা বলে পারিবারিক ভাবে আপনার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই সন্তান সহ! কোনক্রমেই টেলিফোনে বিয়ে বা তাঁর অনুপস্থিতে পরিবারের সাথে দেখা করার বোকামি করবেন না। ভদ্রলোক যদি সত্যিই দেশে এসে পরিবারের সবাইকে রাজি করিয়ে আপনাকে সসম্মানে স্ত্রী রুপে ঘরে তুলে নেন, কেবল তখনই বিয়ে করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি।



« (পূর্বের সংবাদ)