মেইন ম্যেনু

আমার দুই কাজিন ছোটবেলায় আমার সতীত্ব নষ্ট…

আপু আমার বয়স এখন ২২ বছর আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে পড়ছি। এই কথাগুলো কাউকে কখনো বলা হয়নি। আমি ছোট বেলায় যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়েছিলাম। কখন, কবে এটার শুরু আমার কিছুই মনে নেই। তবে আমি একটু বড় হলে বেশ বুজতে পারি আসলে এরা কি চাই আমার কাছে, আম্মু-আব্বু দুজনই জব করতেন।

তাই আমার কাজিন, আত্মীয় সবাই বাসায় আসতো আমাকে দেখাশোনার জন্য। এদের মাঝে আমার দুই কাজিন আমার সাথে এমন করে। আমি যখন বুঝতে পারি যে আমার সাথে তারা অন্যায় করছে আমি তখন তাদের হুমকি দেই যে আম্মুকে সব বলে দিবো। এরপর আর তারা আমার কাছে আসার চেষ্টা করেনি।

এভাবে কিছুদিন চলে যাবার পরে আমি সব কিছুই ভুলে যাই, আমার কাজিনদের সাথে আমার খুব বন্ধুত্বপুর্ন সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কিন্তু কথাই আছে না লেড়ি কুত্তার লেজে ঘি মাখালেও সেটা কোঁকড়ানো থাকে সহজে সোজা হয় না। সেটার বাস্তব প্রমাণ পেলাম আমি নিজেই আমি যখন অষ্টম শ্রেনিতে পড়ি। একদিন আমাকে বাসায় একা পেয়ে আমার এক কাজিন আমার উপর লোলুপ দৃষ্টিতে পশুর মত ঝাপিয়ে পড়ে, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি নিজেকে রক্ষা করি।

ওই দিনগুলোর কথা মনে হলে মরে যেতে ইচ্ছে করে। ওদের যখন চোখের সামনে দেখি নিজের উপর আরো বেশী ঘৃনা লাগে। মনে হয় বেঁচে থেকে কি লাভ? আমি এখন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি কিন্তু কোন ছেলেকেই বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে পারিনা, সব সময় পিছনের এই ভয় তাড়া করে। অনেকে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব ও দিয়েছে কিন্তু আমি রাজি না। ইদানিং বাসা থেকে আমার বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে কিন্তু আমিতো কোন ছেলেকেই সহ্য করতে পারিনা বিয়েতে মত দিব কি করে?

ওই দিনগুলোর কথা মনে হলে মরে যেতে ইচ্ছে করে। ওদের যখন চোখের সামনে দেখি নিজের উপর আরো বেশী ঘৃনা লাগে। মনে হয় বেঁচে থেকে কি লাভ? কে আমাকে এইভাবে নিজের জীবনে গ্রহন করবে?

পরামর্শ–
ছোট বেলায় যা ঘটে গিয়েছে সেটার জন্য আপনি দায়ী নন আপু। আমাদের সমাজটাই এমন, বেশিরভাগ মেয়েই নিজের আপন আত্মীয়দের দ্বারাই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকেন। আপনার মত এমন চিঠি আমরা অনেক পাই, হতাশায় নিমজ্জিত মেয়েগুলো নিজেকেই দোষারোপ করে চিঠি লেখেন।

আমি তাঁদেরকে যা বলি, আপনাকেও বলছি… নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন আপু। পৃথিবীতে সব পুরুষ আপনার ওই কাজিনদের মত নয়। এমন হৃদয়বান মানুষও আছেন, যিনি কিনা সব জেনে আপনাকে ভালোবাসেন এবং নিজের ভালোবাসা দিয়ে আপনাকে সব কষ্ট বুঝিয়ে দেবেন। আপনার হতাশা ও কষ্ট যদি অসহনীয় মনে হয়, তাহলে কোন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাউন্সিলিং করাতে পারেন। এতে মানসিকভাবে অনেকটাই স্বস্তি লাগবে আপনার। বিষয়গুলো কাউকে বিস্তারিত বলতে পেরে হালকা হয়ে যাবে মন। একজন নারী চিকিৎসকের সহায়তা নিলে ভালো।