মেইন ম্যেনু

আমার পরানে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি..

‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হৃদয়ে দিয়েছ দোলা/ রঙেতে রাঙিয়া রাঙাইলে

মোরে একি তব হরি খেলা/ তুমি যে ফাগুন, রঙেরও আগুন তুমি যে রসেরও ধারা/ তোমার

মাধুরী তোমার মদিরা করে মোরে দিশাহারা/ মুক্তা যেমন শুক্তিরও বুকে তেমনি

আমাতে তুমি/ আমার পরানে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি…।’

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বাঙ্গালির চিরায়িত নব বসন্তের হাত ধরে ভালোবাসা দিবসের আগমন। অনেক আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিক্ষার বাস্তবায়ন এ দিবসকে ঘিরে। হৃদয়ের ঘনিভুত জমানো ভালোবাসা এই দিনে মনের মানুষের কাছে উজাড় করে দিতে একে অপরে সেজেছে নতুন সাজে। জমিয়েছে মনে কথার ফুলঝুড়ি।

বাঙ্গালী চিরকাল আবেগপ্রবণ। আর সেই আবেগ থেকেই ভালোবাসার সৃষ্টি। তাইতো আজ ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে সারা বছরে পুঞ্জিভূত প্রেম-ভালোবাসাকে অন্ধকার ভেদ করে আলোকোজ্জল করার প্রবল ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপ দিতে মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে নেমেছে প্রেমিক যুগল। একে অপরকে যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলছে..ন্যায়-অন্যায় জানিনে, জানি শুধু তোমারে।

‘ভালোবাসা’—এক শব্দের মধুর অনুভুতি। আর ভালোবাসার সেই মিষ্টি মধুর সময়ে প্রেমিক-প্রেমিকার অনুভূতি নিয়ে যুগে যুগে তৈরি হয়েছে নানা ঘটনা। একেই ঘিরে যুদ্ধ বিবাদ কলহ, ধ্বংস ট্রয় নগরী। ভালোবাসতে গিয়ে কৃষ্ণের প্রেমে রাধা হয় কলঙ্কিনী। তারপরও নর-নারী আজন্মকাল থেকে নিজেকে বেধেছে এই ভালোবাসার বন্ধনে। নর-নারীর প্রেমকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে শত শত মহাকাব্য। শুধু প্রকৃত প্রেমিক-প্রেমিকেরাই বুঝে প্রেমের রহস্য। তাই তো যুগে যুগে কবি মহাদেব সাহার কবিতার ধ্বনি ধ্বনিত হয়, ‘করুনা করে হলেও চিঠি দিও, ভুল করে হলেও ভালোবাসো।

আজকে তরুণীরা নিজেকে বাহারী সাজে সাজিয়ে প্রিয়তমার হাত ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেড়িয়ে পড়েছে। তেমনি দেখা মিলেছে সংসদ ভবন এলাকায়। প্রেমিকের কাঁধে মাথা দিয়ে শুনছে আগামীর স্বপ্ন-

‘ তোমার সঙ্গে পাগলী/ তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব পাগলী/

তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন এর চোখে ধাঁধা করব/ ওর জল করে দেব কাদা পাগলী/ তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলব যাব দু’কদম।’

এই এলাকার একটু অদুরে লেকের ধারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে দাড়িয়ে থাকা এক তরুণীকে ভালোবাসতে শেখাচ্ছে এক তরুণ.. তুমি একবার ভালোবাসতে চেষ্টা করো– দেখবে, নদীর ভেতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে/ পাথর পাথর পাথর। আর নদী-সমুদ্রের জল/ নীল পাথর লাল হচ্ছে/ লাল পাথর নীল/একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো।’

‘কত বার যে আমি তোমাকে স্পর্শ করতে গিয়ে গুটিয়ে নিয়েছি হাত/ সে কথা ঈশ্বর জানেন/

তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও কতবার যে আমি সে কথা বলিনি সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন… । যারা মনে অব্যক্ত কথা প্রিয়তমাকে বলতে গিয়েও বলতে পারেনি তারা বেছে নিয়েছে এই দিনটাকে। মন-প্রাণ উজাড় করে সুনীলের ভাষায় বলছে ..ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।

আমরা এতটাই ব্যস্ত থাকি সারা বছরে কাছের মানুষটিকে ভালোবাসি কথাটি বলতে মনেও থাকে না। বাস্তবতার আড়ালে যেন হারিয়ে যায় সব। তবে ভালোবাসা দিবসের প্রতিজ্ঞা হয়ে উঠুক নতুন ভালোবাসাময় জীবনের স্বপ্ন। ‘আয় তবে সহচরি, হাতে-হাতে ধরি ধরি, নাচিবে ঘিরিঘিরি গাহিবে গান.. প্রেমিক যুগল ও দম্পতিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক কবি গুরুর এই আবেগী অনুরাগ।