মেইন ম্যেনু

আমার শরীরে একটা পোশাকও ছিল না, গোটা শরীর জুড়ে শুধু কামড়ের দাগ…

তখন আমার শরীরে একটা পোশাকও ছিল না। গোটা শরীর জুড়ে শুধু কামড়ের দাগ। যেন কেউ মাংস মুখে নিয়ে ছিঁড়েখুঁড়ে হাড়টা ছুড়ে ফেলেছে। ছাদের এখানে ওখানে শুয়ে থাকা মানুষগুলিকে দেখছিলাম…

(পূর্ব কাহিনি— রাত গভীর হলেও চলতে থাকে মগরাহাটের সাহসিনীকে নিয়ে আসলামের সওদা। একের পর এক খদ্দের। ক্লান্ত অবসন্ন সাহসিনী হোটেলের কর্মীদের থাকার ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু, তখনও নিস্তার মেলেনি। হোটেল কর্মীদের হাতে রাতভর ধর্ষিত হয় বছর ষোল-র মেয়েটি। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারায় সে। তারপর…)

আমি আবার সওয়ারি আসলামের মোটরবাইকে। কিছুক্ষণ পরে দীপার বাড়ির সামনে এসে মোটরবাইক থামাল আসলাম। আমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। আমি বাড়ির ভিতরে চলে গেলাম। ঠিক করে হাঁটতে পারছিলাম না। যন্ত্রণায় পা ছিঁড়ে যাচ্ছে। কেমন অবশ হয়ে আছে শরীরটা। কোনও মতে ঘরের মেঝেয় গিয়ে বসলাম। চোখ দিয়ে সমানে জল গড়িয়ে যাচ্ছে। ডুকরে ডুকরে বেরিয়ে আসছে মনের কষ্ট। নিজের পরিবার থেকে দূরে চলে যাওয়ার বেদনা। পারি না নিজেকে শক্ত রাখতে। চিৎকার করে কাঁদতে থাকলাম। আমার মনের সব সাহস যেন শেষ হয়ে গিয়েছে। মনে হচ্ছে আমি আর বাড়ি ফিরতে পারব না।

দীপা এল, খানিকক্ষণ বকবক করল। আমি কিছুই বুঝলাম না। চোখ খুলল দীপার ধাক্কায়। দেখি মুখের সামনে ভাতের থালা ধরে রয়েছে। খাওয়ার ইচ্ছে নেই। কিছুটা খেলাম, বাকিটা ফেলে দিলাম। ফের শুয়ে পড়লাম।
সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙল। গতকাল হোটেলের ছাদে ক’ত জন আমাকে ধর্ষণ করেছিল তা আর জানতে পারিনি। কারণ আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম। খুব সকালে আসলামের ধাক্কায় যখন চোখ খুলল, তখন আমার শরীরে একটা পোশাকও ছিল না। গোটা শরীর জুড়ে শুধু কামড়ের দাগ। যেন কেউ মাংস মুখে নিয়ে ছিঁড়েখুঁড়ে হাড়টা ছুঁড়ে ফেলেছে। ছাদের এখানে ওখানে শুয়ে থাকা মানুষগুলিকে দেখছিলাম, বোঝার চেষ্টা করছিলাম, এতগুলোর পশুর সকলেরই কি শিকার হয়েছিলাম আমি? নাকি এদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে শিকার করেছিল রাতভর?

সন্ধ্যায় আসলাম এলে দীপা বলল আমাকে আর রাখতে পারবে না। কারণ, আসলাম আমাকে দিয়ে যা করাচ্ছে তাতে দীপার বিপদ বাড়ছে। দীপা আসলামকে সাফ জানাল, সে আর এত ঝামেলা বইতে পারবে না। দীপা যদি আমাকে না রাখে তাহলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়ানক হবে তা বুঝতে পারছিলাম। কারণ, আসলাম আমাকে নিয়ে গিয়ে তার পুরনো ঠিকানাতেই তুলবে। সেটা যে আমার পক্ষে আরও বিপদের তা তো দিল্লি আসার পর দ্বিতীয় রাতেই টের পেয়েছিলাম।

আজ তিন দিন হল আমি আর আসলাম মানালি এসেছি। শুনেছিলাম পাহাড় নাকি খুব আরামের জায়গা। বিশেষ করে যেখানে বরফ পরে, ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব থাকে সেখানে। ভূগোল বইয়ে পড়া হিমাচল প্রদেশের জায়গাটাতে আমাকে নিয়ে এসেছে আসলাম। এখানে আসার আগে একটা গরম চাদর ও সোয়েটার কিনে দিয়েছিল আসলাম। তবু, ঠান্ডা যাচ্ছে না শরীর থেকে। এখানেও আমাকে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন হোটেলে যেতে হয়েছে।

সকাল থেকে একের পর এক খদ্দের। এখানে প্রকৃতি কত সুন্দর। বিশাল বিশাল সব গাছ। মাঝে মাঝে কেমন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে এলাকা। কত লোকে ঘুরতে এসেছে। আমাকে কোথাও ঘুরতে যেতে দেয় না আসলাম। শুধু এক হোটেল থেকে আর এক হোটেল। না হলে হোটেলের জানলা দিয়ে চারিদিক দেখ। আর আসলাম ঘরে থাকলে তার লালসা মেটাও। আমি যেন ওর কাছে এক তাল মাটি। যখন ইচ্ছে হবে তখন ও আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছে করবে।

একদিন একটা হোটেলে যাওয়ার পথে একটা বাঙালি পরিবারের মুখোমুখি হলাম। বাংলা কথা শুনে ধড়ে যেন প্রাণ এল। ভাবলাম জিজ্ঞেস করি কোথা থেকে এসেছে তারা? কথাবার্তায় বুঝলাম কলকাতা এদের ঠিকানা। এরা আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারবে? ওই লোকগুলোর গায়ে কত সুন্দর সুন্দর পোশাক। আমার মতো নোংরা জামাকাপড় পরা মেয়ের কথা বিশ্বাস করবে কেন? আমি লোকগুলোকে দেখতে লাগলাম। লোকগুলোও আমাকে দেখতে লাগল। ওরা বুঝতে পারছে না, কেন আমি এভাবে তাকিয়ে আছি। চটকাটা ভাঙল, আসলাম যখন হাত ধরে টানতে থাকল তখন…

সূত্র: এবেলা