মেইন ম্যেনু

‘আমার শোবার ঘরে কি হয়, সেটা কাউকে বলতে আমি বাধ্য নই!’

প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক একটা সমাজব্যবস্থার মধ্যে থেকেও প্রতিনিয়ত তিনি প্রমান করে চলেছেন নিজেকে। বলা হচ্ছে সানিয়া মির্জার কথা। ক্রিকেট যেখানে ধর্মের মত, আর ক্রিকেটাররা যেখানে দেবতাতুল্য – সেই ভারতেই তিনি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকধারী অ্যাথলেট।

আর, কেবল তার কল্যানে এখন শুধু ভারতেই নয়, গোটা উপমহাদেশেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টেনিস। তবে, স্রেফ নারী বলেই কি না, প্রচলিত সমাজব্যবস্থার মধ্যে প্রায়ই তাকেও নানা বঞ্চনা ও নানান রকম প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়।

এবার সেসব নিয়েই তিনি মুখ খুললেন বিবিসির কাছে। ইয়োগিতা লিমায়ের ‘২০১৫ সালের ১০০ নারী’ শীর্ষক এক আয়োজনে সানিয়া মুখোমুখি হয়েছিলেন ব্রিটিশ এই গণমাধ্যমটির। সেখানে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি একজন নারী হয়ে জন্মাবেন, তখন আপনাকে অনেক সংগ্রাম করতে হবে। সেটা আমি ভারতে থাকি বলে বলছি না, পৃথিবীর এই অংশে থাকি বলে বলছি না। আসলে গোটা পৃথিবীর জন্যই এ কথাটা প্রযোজ্য।’

সানিয়া আরও জানালেন, এখানে কর্মজীবনে সাফ্যলের প্রাচুর্য থাকার পরও এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যে, ‘তোমরা কবে বাচ্চা-কাচ্চা নিচ্ছো? কাউকে এটা জিজ্ঞেস করা যে তার প্রতি কতটা অসম্মান দেখানো সেটা বলে বোঝানো যাবে না। আমি পরিচিত মুখ হলেও, আমার শোবার ঘরে কি হয়, সেটা বলতে আমি কারও কাছে বাধ্য নই!’

নারী ও পুরুষের বিভেদের একটা নমুনার কথাও বললেন সানিয়া, ‘একজন নারী যদি ঘর থেকে বের বলেন, আমি এভাবে চাই, তাহলে তাকে বলা হবে তিনি উড়নচণ্ডি বা খুব বেশি ক্যারিয়ার-সচেতন। কিন্তু, পুরুষের ক্ষেত্রে এমন কোন শব্দ নেই। তারা যদি ঘরে থেকে হয়ে কোন কিছু অর্জন করার বাসনা প্রকাশ করে তাহলে তাকে বলা উচ্চাভিলাষী।’

তবে, বাইরের বিশ্বের তুলনায় যে, ভারত কিংবা উপমহাদেশের অবস্থা তুলনামূলক খারাপ সেটা স্বীকার করলেন সানিয়া। বললেন, ‘সম্প্রতি টেনিসে নারী ও পুরুষের জন্য প্রাইজমানির পরিমান সমান করা হচ্ছে। কিন্তু, ভারতে এখনও এটা হয়না। এখানকার মানুষ ওভাবে ভাবতেই পারে না এখনও।’

জানিযে রাখা ভাল, চলতি বছরে মার্টিনা হিঙ্গিসের সাথে মিলে টেনিসের মোট নয়টি দ্বৈত শিরোপা জয় করেন। দ্বৈত টেনিসে এখন এই দু’জনই আছেন র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে। সিডনি ইন্টারন্যাশনালে ভিন্ন এক সঙ্গীকে নিয়েও দ্বৈত টেনিসের শিরোপা জিতে নিয়েছেন সানিয়া।

শুধু তাই নয়, জীবন সঙ্গী ও সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শোয়েব মালিকের ক্রিকেটীয় জীবনেও সানিয়ার প্রভাব অনেক। গত মাসে পাঁচ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া মালিক বলেছিলেন, সানিয়ার অনুপ্রেরণাই পাল্টে দিয়েছে তার জীবন।