মেইন ম্যেনু

হুমকির বিষয়ে তারানা হালিম

আমার সততা কেনার মূলধন কারও নেই

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিমকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রীর ল্যান্ডফোনে (মন্ত্রণালয়ের) তাকে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসার ক্ষতি হয় এমন কিছু না করার জন্য এক পুরুষ কন্ঠ হুমকির সুরে কথা বলেছেন।

তারানা হালিম ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে তার বলা কথা মনযোগ দিয়ে শোনার ও অনুসরণ করার জন্য বলেন।

বিপরীতে তারান হালিম উত্তর দেন, ‘আপনি যেই হোন না কেন, আমার কাজে বাধা দেওয়ার মতো শক্তি আপনার নেই। থাকলে পরিচয় গোপন করে হুমকির সুরে কথা বলতেন না। অতএব আপনার সঙ্গে কথা বলার কোনো মানে নেই।’

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত জানান তারানা হালিম।

তিনি জানান, তারানা হালিমের কাজের উদ্যোগকে কেউ হুমকি ধামকি দিয়ে থামাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে অন্তত এতটুকু শিখেছি যে, জন মানুষের জন্য কাজ করলে শত বাধা আসবে। সব বাধা পায়ে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

‘তারানা হালিমের সততা এত ঠুনকো নয় যে, কেউ একজন হুমকি দিলেই সেটা ভীত হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তির কাছে আমার সততা কেনার মূলধন নেই। তাই আমার কোনো পিছুটানও নেই। আমার সততার উপর নিজের আস্থা আছে। তাই এইসব উটকো ঝামেলা আমাকে দমাতে পারবে না।’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকেও হুমকি এসেছে জানিয়ে তারা হালিম জানান, দুই দিন আগের বিষয়টা আজ বলার কারণ হচ্ছে এই বিষয়টা নিয়ে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে কাজ করেছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি, তারা তদন্ত করে দেখছে। এ ছাড়া আমাকে এত বেশি হুমকি দেওয়া হয় যে বার বার সেটা মিডিয়াতে বলাটাও বিরক্তিকর এবং হালকা বিষয় হয়ে যায়।

এসব হুমকি আপনার মানসপটে কি ধরণে প্রভাব ফেলে? এমন প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম বলেন, ‘প্রভাব তো অবশ্যই ফেলে। যেমন, আমি যে বিষয় নিয়ে কাজ করি তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কেউ যদি অনৈতিকভাবে চেষ্টা করে তখন সেই কাজ করার জন্য আরও বেশি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই। সেটা বাস্তবায়ন করেই ছাড়ি। তাই এইসব হুমকি আমাকে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আমি মনে করি।’

প্রসঙ্গত, তারানা হালিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ ভিওআইপি এবং নিবন্ধনহীন সিমকার্ড বন্ধ করার জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামীকাল রোববার থেকে নতুন উদ্যোগে সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

ধারণা করা হয়, অবৈধ সিম দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি মিনিট বিদেশী ভিওআইপি কল বাংলাদেশে ঢুকে।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই উদ্যোগ সফল হলে সকল অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হবে। আর এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তারানা হালিম।