মেইন ম্যেনু

আমার স্বামীকে ফাঁদে ফেলে ওই মহিলা পরকীয়া করেছে…এখন কী করব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গৃহবধূ জানিয়েছে স্বামীর পরকীয়ার সমস্যার কথা। তাঁর বিশাল চিঠি সংক্ষেপে তুলে দিলাম আমরা।

“রুমানা বৈশাখী আপু, সালাম নেবেন। আপনার কাছে একটা পরামর্শ দরকার। আমি মানসিক ভাবে খুব কষ্টে আছি। ৭ বছর হল আমার বিয়ে হয়েছে, একটি ছেলেও আছে আমাদের। খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয় আমাদের পারিবারিক ভাবে। আমার তখন ১৭, স্বামীর ২৩। কিন্তু বিপত্তি ঘটে কিছুদিন আগে। বিয়ের ৬ নম্বর বছরে স্বামী বয়সে বড় একটি মহিলার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়।

আমার স্বামীর চরিত্র এমনিতে খারাপ না। কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে সব ঘটে যায়। মহিলার সাথে তাঁর বিয়ের আগেই সম্পর্ক ছিল। মহিলার একাধিক বিয়ে, একটাও টেকেনি। সে আমার স্বামীকে নিজের দুঃখের বয়ান শুনিয়ে বশ করে ফেলেছে। আমার স্বামীর সাথে ওই মহিলার পরকীয়া ৩ মাস ছিল। তারপর স্বামী আমাকে সব কিছু সত্য বলে দেয় ও ক্ষমা চায়। এবং আমাকে সুখী রাখার ওয়াদা করে।

এখন সমস্যা হচ্ছে, আমি তাঁকে কিছুতেই আর বিশ্বাস করতে পারছি না। সে খব চেষ্টা করে আমাকে খুশি রাখার। কিন্ত আমি কিছতেই ওই ব্যাপারটা ভুলতে পারছি না। তাঁকে আমি সহ্য করতে পারি না। সারাক্ষণ ঝগড়া করি আর সন্দেহ করি। ফলে আমিও কষ্ট পাই, সেও কষ্ট পায়। বাচ্চাটা না থাকলে হয়তো ছেড়েই দিতাম। এত বেশী ভালবাসতাম তাঁকে যে কষ্টটা কিছুতেই ভুলতে পারছি না।

আমি কী করবো আপু? কোথায় যাব? এক মুহূর্তের জন্য শান্তি পাচ্ছি না জীবনে। আমার জীবনটা অসহ্য হয়ে উঠেছে। কী করলে একটু শান্তি পাব আমি? প্লিজ হেল্প মি।”

পরামর্শ:

ওয়ালাইকুম সালাম আপু।

আপনার মানসিক অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি আপু। আমরা যাকে খুব বেশী ভালোবাসি, সে প্রতারণা করলে এমন মানসিক অবস্থা হবে যে কারো। খুব গভীর ভালোবাসার অপর পাশে থাকে গভীর ঘৃণা। কিন্তু তাঁর মানে কিন্তু এই নয় যে ভালবাসাটা মরে গেছে। বরং ভালোবাসা জীবিত আছে বলেই ক্ষমা করতে পারছেন না আপনি।

আপু, আমার মনে হয় আপনার স্বামী আপনাকে সত্যিই ভালোবাসেন। এবং আপনার ভাগ্য ভালো বলতে হবে যে তিনি নিজের মুখেই সব স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং আপনাকে খুশি রাখার চেষ্টা করছেন। খুব কম মানুষই পারেন এটা। এমন অবস্থায় যদি আপনি তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি অনেক দূরে সরে যাবেন। এত দূরে যে চাইলেও আর তাঁকে ফিরে পাবেন না।

আপু, মাঝে মাঝে ভালোবাসায় আমাদের মন ভাঙে। কিন্ত সঙ্গী যদি সত্যি অনুতপ্ত হয়, তাহলে তাঁকে ক্ষমা করতে হয়। ক্ষমা করলে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা যায়। তাছাড়া সন্তানে কথাটাও ভাবুন। যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। অতীত নিয়ে পড়ে থেকে কেবলই কষ্টই পাচ্ছেন আপনি। স্বামীকেও কষ্ট দিচ্ছেন।

আপনার স্বামী যেহেতু অনুতপ্ত, তাঁকে আরেকটা সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন আপু। এছাড়াও আপনারা দুজনে একজন ভালো ম্যারেজ কাউন্সিলারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কিংবা নিজের মনের কষ্ট ভোলার জন্য একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসক আপনার বিষণ্ণতা কাটাতে ও কষ্ট কম করতে সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে স্বামীকেও সাথে নিয়ে যান। দুজনে একসাথে থেরাপি নিন।প্রিয়.কম