মেইন ম্যেনু

‘আমি ক্ষমতায় থাকতে শুধু নূর হোসেন ও মিলন মারা গেছিল’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘আমি ক্ষমতায় থাকতে শুধু মিলন ও নূর হোসেন মারা গিয়েছিল। আর এখন প্রতিদিনই লোক মরে।’

শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘আমার ক্ষমতা ছাড়তে মাত্র দুটি লোক মারা গিয়েছিল, মিলন আর নূর হোসেন। এখন প্রতিদিন কত লোক মারা যায়, তার কোনো হিসেব নেই। আমি খবরের কাগজ পড়িনা। পড়লে দুঃখ লাগে। শুধু লাশের খবর। এই কি স্বাধীন বাংলাদেশ?’

তিনি বলেন, ‘মানুষ ঈদ করতে বাড়িতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় মারা যায়। এ দেশে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৯০ লাখ; তাহলে মানুষতো মারা যাবেই। এসবের বিচার হয় না। যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে এসব হত না।’

নিজের শাসনামলে মেধাবীরা চাকরি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে সবচেয়ে বড় অপবাদ বেকারত্ব। মানুষের কোনো চাকরি নেই। চাকরি পেতে টাকা দিতে হয়। আমাদের সময় মেধাবীরা চাকরি পেয়েছে। এখন পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে যেকোনো চাকরির জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। যোগ্যতার কোনো মাপকাঠি রাখা হয় না।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নিজ থেকে কারো সঙ্গে হাত মেলাবে না। আমরা এখন শক্তিশালী, একাই একশ। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’

এরশাদ বলেন, ‘দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে বিএনপি। এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে। নব্বইয়ে ক্ষমতা ছাড়ার আগে আমাকে কথা দেওয়া হল- সবাইকে নির্বাচন করার সমান সুযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচনের শর্তে আমি ক্ষমতা ছেড়ে দিই; কিন্তু আমাকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেদিন নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হলে জাতীয় পার্টি আবারো ক্ষমতায় আসতো।’

বক্তব্যের শুরুতে এরশাদ বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে ১২১ জন নেতাকর্মী নিয়ে সিলেটে এসেছি দলকে সুসংগঠিত করার জন্যে। একদিন ভোট দিয়ে আপনারা আমার জীবন রক্ষা করেছিলেন। আজ আবার আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা ভোট দিয়ে আবারো আমাকে ক্ষমতার সুযোগ দিন।’

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার একটি বিমানে করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এরশাদসহ তার সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান।

সিলেটে পৌঁছেই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।