মেইন ম্যেনু

আমি তো বাবা ডিজিটাল না, এনালগ: রাষ্ট্রপতি

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন চলাকালে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লাউঞ্জে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বভাবসূলভ হাস্যরসে মেতে উঠেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এর আগে সংসদ ভবনের ছয় তলায় অধিবেশন কক্ষে নির্ধারিত বক্সে বসে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে সংসদ ভবনে নিজের চেম্বারে ফেরার সময় ঢোকেন সাংবাদিক লাউঞ্জে। প্রটোকলের মধ্যেই চেয়ারে বসে প্রায় ১০ মিনিট উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

সেসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড আমি বুঝি না। আমি টেহাও জমা দেই চেকের মাধ্যমে। এসময় একজন সাংবাদিক বলেন, স্যার সরকার তো ডিজিটাল। একথা বলার পর রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি তো বাবা ডিজিটাল না, এনালগ।

রাষ্ট্রপতি কুশলাদি বিনিময় করার সময় এক সাংবাদিক তার জীবনী লেখার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আগে জিল্লুর সাহেব শেষ করতে পারেন নাই, মারা গেছেন। আমি শুরু করেছি, মরার আগে করতে পারব…।

এরপর তিনি স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতে সাংবাদিকের কুশল জানতে চান। সাংবাদিকরাও রাষ্ট্রপতিকে কাছে পেয়ে তার শরীরের খোঁজ খবর জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন এখান থেকে যাই, তখন ছিলাম ৬৮ কেজি, এখন ৬৯ কেজি। এই কয়েক বছরে এক কেজি বাড়ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই এক কেজি বাড়ছে খোয়াড়ের (নিরাপত্তা বলায়ে থাকার কথা বুঝিয়েছেন) মধ্যে থাকি তো। খোয়াড়ের মধ্যে থাকলে ওজন বাড়ে।

রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের খোঁজ খবর নেন। লাউঞ্জে সাংবাদিকদের কাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো আছে কিনা সে বিষয়েও খোঁজ নেন রাষ্ট্রপতি।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাঝে মধ্যেই সাংবাদিক লাউঞ্জে যেতেন মো. আবদুল হামিদ। আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সাংবাদিকদের লাউঞ্জে এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন তিনি।

সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদিত বাজেট প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়ে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা যায় না।