মেইন ম্যেনু

“আমি বিবাহিতা জেনেও ওই ছেলেটি আমাকে খুব ভালোবাসে…”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি অনেক জটিল সমস্যায় আর মানসিক চাপে আছি। তাই, পরামর্শ চাই। আমি একটা ছেলেকে ভালোবেসে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলি এক বছর সম্পর্কের পরে। তার আগে একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো এবং তা ভেঙেও গিয়েছিলো সেটা আমি জানতাম। তার সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিলো তারপর বিয়ে। আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। ও অনেক রাগী একটা ছেলে এবং কোন মেয়েকেই বিশ্বাস করতো না, এমনকি আমাকেও না। ছোটখাটো ব্যাপারগুলোকে অনেক বড় করে দেখত। একটা সময় সে আমাকে অনেক জোর করে বিয়ে করার জন্য আর আমি তার বিশ্বাস অর্জনের জন্য কিছু না ভেবেই বিয়ে করে ফেলি। ভেবেছিলাম হয়ত বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু না। আমাদের বিয়ের ২ বছর পার হয়ে গেছে অথচ তার ব্যবহার আগের মতই আছে। একটু অন্যায় করলেই মা বাবা তুলে গালি দেয় এমনকি গায়ে হাত তুলে। আর একটা কথা বলে নেই। আমাদের দুজনের বিয়ের কথা দুজনের পরিবারই জানেনা। আমি ঢাকার বাইরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি আর ও জব করে। ওর এসব আচরণে আমি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছি। ভয়ে ছোটখাটো মিথ্যা বলে ফেললে ও খুব রিয়েক্ট করে। যতবার ঝগড়া হয় আমিই নিজে থেকে মিলে যাই।

আর অন্য দিকে একটা ছেলে আমাকে ৪ বছর ধরে অনেক বেশি ভালোবাসে। আমি জানতাম আগে থেকেই কিন্তু সাড়া দেইনি। হঠাৎ একদিন ওই ছেলের সাথে আমার কথা হয়। আমি তাকে সব খুলে বলি। সে সব কিছু মেনে নিয়ে আমাকে বিয়ে করতে চায় আর বলে সবাই জেনে যাওয়ার আগে তুমি ওকে ছেড়ে দাও। ওই ছেলেটা অনেক ধার্মিক। আমাকে সব সময় ভালো কথা বলে আর আমার জন্য পাগল আমি বুঝতে পারি। ঐ ছেলেটা UK থাকে আর আমার জন্য দেশে এসেও বিয়ে করতে রাজী আছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা আমি কী করবো। আমার স্বামীর কাছ থেকে আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি আর একা একা সব নিরবে সহ্য করছি। উল্লেখ্য দ্বিতীয় ছেলেটাকে আমার মা বাবা খুব পছন্দ করে মনে মনে।

এখন আমি কী করবো? আমার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবো নাকি এভাবেই সব সহ্য করে থাকবো। দয়া করে একটা উপায় বলুন।”

পরামর্শ:

আপু, প্রথমেই বলি মা-বাবাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে খুবই অন্যায় একটি কাজ করেছেন। এটার পরিণাম কখনোই ভালো হয় না। নিজেই দেখুন, সম্পর্কটি এখন বোঝার মত হয়ে গেছে।

আপনার চিঠি পড়ে মনে হলো প্রথম স্বামীর সাথে আপনি আর থাকতে চান না এবং দ্বিতীয় ছেলেটিকে আপনিও পছন্দ করে ফেলেছেন। দেখুন আপু, পরকীয়া খুব খারাপ জিনিস। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর সাথে আপনার সম্পর্ক আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই দ্বিতীয় ছেলেটির সাথে সম্পর্কে জড়ানো মোটেও উচিত হবে না। আপনি একটি একটি করে সমস্যার সমাধান করুন। আগে স্বামীর ব্যাপারটা মিমাংসা করুন।

প্রথমেই ভেবে দেখুন স্বামীর সাথে সম্পর্ক রাখতে চান কি চান না, তাঁর যেমন ব্যবহার তাতে ভবিষ্যতে সংসার করতে পারবেন কিনা এবং দুই পরিবার বিয়ের কথা জেনে গেলে কী হবে। সবদিক বিচার বিবেচনা করে যদি সম্পর্ক রাখতে মন সায় না দেয়, তাহলে ডিভোর্সের চেষ্টা করুন। দ্বিতীয় ছেলেটির জন্য না, প্রথম স্বামী থেকে যদি ডিভোর্স নিতেই হয় সেটা কেবল নিজের কারণেই নেবেন। ডিভোর্স যদি নেন, তাহলে দ্বিতীয় ছেলেটিকে বিয়ে করবেন সেই আশায় না নেয়াই ভালো।

ডিভোর্স যদি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দ্বিতীয়বার জীবন অবশ্যই মা বাবার মতামত মেনে শুরু করবেন। সেটা যার সাথেই হোক না কেন। একটিই জীবন, বিয়েকে ভুল সিদ্ধান্ত মনে হলে আঁকড়ে ধরে রাখার দরকার নেই। তবে প্রথম স্বামী কী চান, সেটাও ভেবে দেখবেন। তাঁকেও তো ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন।



« (পূর্বের সংবাদ)