মেইন ম্যেনু

পুলিশকে আ.লীগ নেতা : আমি রং সাইডে যাব, তুই আটকানোর কে?

মঙ্গলবার বিকেল। ইফতারের আগমুহূর্ত। রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট। রাজধানীর ওয়ারলেস মোড় থেকে মগবাজার পথে উল্টো দিক থেকে আসছে একটি প্রাইভেট কার। দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক সেটা আটকাতেই গাড়ি থেকে বের হয়ে একজন শুরু করলেন গালিগালাজ। একপর্যায়ে তাঁর বক্তব্য, ‘আমি রং সাইডে যাব। তুই আটকানোর কে?’

পুলিশকে গালিগালাজ করে যিনি কথাগুলো বলছিলেন, তাঁর নাম মো. মোখলেসুর রহমান। রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সন্ধ্যায় পুলিশকে যখন তিনি এভাবে গালিগালাজ করছিলেন, তখন রাস্তায় লোকজনের ভিড় জমে। আশপাশের দোকানসহ অনেকেই এ ঘটনা দেখেছেন।

ঘটনার সময় মগবাজার মোড়ে রমনা থানার উপপরিদর্শক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন টহল পুলিশ মগবাজার মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ বলেন, ‘বিকেলের দিকে প্রচণ্ড যানজট হয়। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আমাদের টহল পুলিশকে যানজট নিরসনে কাজ করতে বলা হয়। ইফতারের ২০-২৫ মিনিট আগে একটি কালো প্রাইভেট কার উল্টো পথ দিয়ে মগবাজারে আসছিল। আমি তখন গাড়িটি থামার নির্দেশ দিলে সেখান থেকে একজন বেরিয়ে এসে পুলিশকে গালিগালাজ শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি বলে, “আমাকে চিনোস? তুই সাব-ইন্সপেক্টর কোথা থেকে আসছিস। আমি রং সাইডে যাব। তুই কে?”’

খোরশেদ বলেন, ‘আমি ঘটনার প্রতিবাদ করলে তিনি যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি তখন বলি, আপনার কিছু বলার থাকলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে পারেন। একপর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করতে করতে চলে যান। ইফতারের পর আরও কয়েকজন যুবক এসে আমাকে ফের গালিগালাজ করে। মারতে উদ্যত হয়। পরে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনা জানিয়েছি।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমার একটা ইফতার পার্টির দাওয়াত ছিল। রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট ছিল। আমার ড্রাইভার তখন উল্টো সাইড দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ আটকালে আমি নিজে নেমে গিয়ে তাকে আমার পরিচয় দিয়ে বলি, আমি যদি ঠিক পথে যাই তাহলে তো আমি ইফতারে পৌঁছাতে পারব না। কিন্তু ওই পুলিশ কোনো কথাই শুনতে চাইছিল না। আমি তাকে বলি, আপনি কি পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা? এ সময় অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। সবাই তো আমাকে চিনে। ওই পুলিশের ব্যবহার খুব খারাপ।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছি।’প্রতিবেদন প্রথম আলো’র সৌজন্যে প্রকাশিত।






মন্তব্য চালু নেই