মেইন ম্যেনু

‘আমি শুধু মেয়েদের ধরি’

‘আমি শুধু মেয়েদের ধরি’ কথাটা একটু ব্যতিক্রম। কথাটি ব্যতিক্রম মনে হলেও এমনটাই বলেছেন, রাজধানীর কবি নজরুল কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ুয়া এক ছাত্র।

আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষীদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে যেন আনন্দ একটু বেশিই।

বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আসা দর্শনার্থীদের হাতে মুখে শরীরে আলপনা আঁকার জন্য দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন কলেজ, ভার্সিটির ছেলে-মেয়েরা। দর্শনার্থীরা রিক্সা, গাড়ি, মোটসাইকেল থেকে নামতেই আকুতি শুরু হয়ে যায় তাদের। ভাইয়া-আপু, ভাইয়া-ভাবি বলে সামনে পিছনে হাটঁতে থাকে একটু পহেলা বৈশাখের আলপনা আঁকার জন্য।

বিশেষ করে শিশুদের দিকে তাদের আর্কষণ বেশি থাকে। সেচ্চায় বা জোড় করে হোক তারা গায়ে একটু আলপনা আঁকাতে চায়।

পল্টন, রমনাপার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, টিএসসি, ধানমন্ডি লেক এবং রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি বিনোদন কেন্দ্রের সামনে ভিতরে রয়েছে এদের ভীড়। এটা মানুষের শরীরে আলপনা এঁকে জনসাধারণের কাছ থেকে কিছু বকশিস নেয়।

রাজধানীর পল্টন মোড়ে এমন এক জনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি কবি নজরুল কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।তিনি বলেন, ‘আমি শুধু মেয়েদেরকে ধরি এবং তাদের হাতে আলপনা বা নববর্ষের শুভেচ্ছ লিখে দিই। এর বিনিময়ে কিছু টাকা পাওয়া যায় আরকি।

তিনি বলেন, শুধু আমি না অনেক ভার্সিটির ছেলেরা এ কাজ করে। আবার কিছু পেশাদার লোক আছে যারা জোর করে এঁকে জনসাধারণের কাছ থেকে টাকা আদায় করে।’

তিনি এ প্রতিবেদকে জানান, আমরা মুখের বা হাতের যে কোন স্থানে আলপনা বা নববর্ষের শুভেচ্ছা লিখলে ১০-২০ টাকা নিয়ে থাকি। তবে অনেককে খুশি হয়ে ৫০ টাকাও দিয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ, পহেলা বৈশাখ, ১৬ ডিসেম্বর এ ধরনের বিশেষ দিনে কিছু বাড়তি আয়ের জন্য এ কাজ করে থাকি।

তবে মাঝে মাঝে তাদের ভিতরে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতন্ডা সৃষ্টিরও হয়। এদিকে জোড়পূর্বক আলপনা এঁকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে অনেক দর্শনার্থী। একজন দর্শনার্থী মুক্তা আকতার জানান, আমি ছোট মেয়েকে নিয়ে বৈশাখে আনন্দ করতে আসলাম রমনার বটমূলে। কিন্তু সেখানে ঢুকতেই জোড় করে একজন আমার মেয়ের মুখে আলপনা আঁকছে আবার বেশি টাকা দাবি করছে।