মেইন ম্যেনু

‘আমি হয়ত নাক ডেকে ঘুমিয়েছি, আম্মা সারা রাত জেগে থেকেছেন’

চলতি বছরেই তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন ক্যারিয়ারের ‘দ্বিতীয় জীবন’। আগামী ১৬ আগস্ট সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ এই ক্রিকেটারের অপেক্ষার প্রহর যেন কোন ভাবেই শেষ হচ্ছিল না। অবশেষে সেটা শেষ হল নতুন বছরের ঠিক পরদিন – মানে ১৫ এপ্রিল। মাঠে ফিরলেন আশরাফুল; পুরোদমে শুরু করলেন অনুশীলন। আর জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক জানালেন, তার ফিরে আসার পেছনে তার মূল প্রেরণা তার মা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন –

12998744_10209744250112890_4760767100785746821_n

তামিম আর তার আম্মা নুসরাত আন্টির একটা অ্যাড আছে । সেই অ্যাডের একটা লাইন হল ….আমি জিতলে জিতে যায় মা… অ্যাডের জন্য লাইনটা ব্যবহার করা হলেও এটা খুবেই সত্যি যে সন্তান জিতলে জিতে যায় মা। যত বার ইনজুরিতে পড়েছি যতবার ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার লড়াই করেছি ঠিক ততবার আমার আম্মার ও লড়াই করতে হয়েছে। ইনজুরীতে পড়লে ভীষন পরিচর্যার দরকার হয়। আম্মা প্রতিবার সেটা দারুণ যত্নের সাথে করে। এমন অনেক ইনজুরীর সময় গেছে যখন ৩ ঘন্টা পরপর ঔষধ খেতে হয়েছে। রাতে আমি হয়ত নাক ডেকে ঘুমিয়েছি, আম্মা সারা রাত জেগে থেকেছেন রাতে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে ঔষধ খাওয়ানোর জন্য। একবার কুঁচকির ইনজুরীতে পড়লামকুচকির মত স্পর্শকাতর জায়গায় মেডিসিন মালিস করতে হত; নিজে সেটা ভালো ভাবে সম্ভব নয় তবু রুমের দরজা লাগিয়ে বা বাথরুমে গিয়ে একা কাজটা করতামলজ্জায় কেউ কে বলতে পারিনা কুচকিতে মেডিসিন লাগিয়ে দাও। আম্মা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ভীষন বকা দিল…আরে বোকা আমি তোর মা না ? আমার কাছে কিসের লজ্জা? তুই যতই বড় হোস না কেন আমার কাছেত ছোট্ট বাচ্চাই… এরপর প্রতিবার কুচকিতে তিনি মেডিসিন লাগিয়ে দিতেন। এবার হাতের আঙ্গুলের ইনজুরীতে পড়ার পর মা ই ঠিক সময়ে ঔষধ খাওয়ান থেকে শুরু করে সব করেছে। অর্চি ওর বাবার বাসায় ছিল পরীক্ষার জন্য। আজ সুস্থ হয়ে আবার প্র্যাকটিসের উদ্দ্যেশ্যে প্রাইভেট কারে উঠলাম।আম্মা গাড়ী পর্যন্ত এগিয়ে দিল। ইনজুরিতে পড়ার পর এত দিন তার মুখে হাসি দেখি নাই।প্রাইভেট কারে ওঠার পর আম্মা কে দেখলাম হাসছে এরপর বললেন …আর ইনজুরীতে পড়িস না বাবা। আল্লাহ তোকে রক্ষা করুক। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে। এফ এম রেডিও শুনতে শুনতে প্রাকটিসে যাচ্ছিলাম। অনেক দিন পর মাঠে প্রাকটিসের জন্য যাওয়ায় ভীষন ভালো লাগছিল। আর ইনজুরীকে পরাজিত করায় আম্মার মুখের হাসি মিষ্টি সকালটা কে আরো মিষ্টি করে দিল। অম্মার সেই হাসির একটাই অর্থ… তুই জিতলে জিতে যাই আমি…