মেইন ম্যেনু

আমেরিকাজুড়ে জোরালো হচ্ছে বর্ণবাদের প্রতিবাদ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিসোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণবাদের প্রতিবাদে আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট এবং চ্যান্সেলরের পদত্যাগের পর গোটা বিষয়টি সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে সাড়া ফেলে দিয়েছে। কারণ মিসোরির আন্দোলনকে দৃষ্টান্ত হিসাবে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এই দেশব্যাপী আন্দোলন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইথাকা কলেজ এবং স্মিথ কলেজে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এই আন্দোলন এখনো মিসোরির মত বিক্ষোভে পরিণত হয়নি যেখানে শত শত ছাত্র শিক্ষক মিলে প্রতিবাদসভায় অংশ নিয়েছিলেন।

আন্দোলনের মুখে গত সোমবারে যখন মিসোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট টিম উলফ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তখন সেটা শোনার পর নিউ হেভেন কানেটিকাটের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার ছাত্র-ছাত্রী সেখানকার আফ্রিকান আমেরিকান কালচারাল সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে মিসোরির আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে। এসময় তারা বর্ণবাদকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য শ্লোগান দেন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি একটি বর্ণবাদের ঘটনা ঘটে যখন সেখানকার একটি হ্যালোইন পার্টিতে একজন কালো চামড়ার নারীকে ঢুকতে না দিয়ে বলা হয় যে পার্টিতে শুধুমাত্র সাদা চামড়ার নারীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

নিউ ইয়র্কের ইথিকা কলেজ থেকেও ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ‘পিপল অফ কালার’ নামক ইথিকা কলেজের একটি ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে গাত্রবর্ণের কারনে ঘটা বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদে তাদের ফেসবুক পেইজে এই নিরব ধর্মঘটের ডাক দেন। ইথিকা কলেজের প্রেসিডেন্ট টম রকন এর বিরুদ্ধেও বর্ণবাদের একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি এ বিষয়ে চাপের মুখে আছেন।

ম্যাসাচুসেটাস রাজ্যের স্মিথ কলেজেও আজ বুধবার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষকও তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন। ইংরেজি বিভাগের সহ-অধ্যাপক এলিসা গ্লিক বলেছেন, ক্যাম্পাসে সর্ববর্ণের মানুষের জন্য সুবিচারের যে দাবি তাতে আমি একাত্মতা জানাই।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে বর্ণবাদ প্রতিরোধে কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এই জাতীয় ঘটনা আর না ঘটে।