মেইন ম্যেনু

কারা ওই 'আরাকান আর্মি'?

আরাকান আর্মি নেতার ভিডিও বার্তা প্রকাশ

আরাকান আর্মি মিয়ানমারের কোনো সরকারি বাহিনী নয়। এটি একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী সংগঠন। দ্য আরাকান আর্মি, যাদের সংক্ষিপ্ত কোড এএ। শুধু আরাকান আর্মিই নয়, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে আরো বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত।

বৌদ্ধ বিদ্রোহী এই সংগঠনটি চীনের উত্তর-পূর্ব ও মিয়ানমারের সর্ব উত্তরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কাচিন রাজ্যের স্বাধীনতার জন্য সরকারি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করছে। এদের মূল অবস্থান কাচিন রাজ্যের আরাকানে।

২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১২ সালে এক ঘোষণায় আরাকান আর্মি দাবি করে আরাকানে তাদের ৪০০-৫০০ সদস্য রয়েছে। তাদের স্লোগান হলো আরাকানি মানুষের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ।

তাদের দাবি তারা জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে। এছাড়া জাতীয় মর্যাদা ও আরাকান ন্যাশনাল স্বার্থ উন্নয়নের জন্য তারা কাজ করে। এই বাহিনীর প্রধান তুয়ান মার্ট নায়াং।

অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে আছে আরাকান লিগ ফর ডেমোক্রেসি। ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৩ জানুয়ারি ২০১৪তে ভেঙ্গে গেলে আগে চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

আর ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আরাকান লিবারেশন পার্টি। এটিও আরাকানের স্বাধীনতা এবং জাতীয়তা রক্ষার আন্দোলন করছে। ১৯৭৩ ও ১৯৮১ দলটি পুনগঠন করা হয়। এই দলের সদস্য সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। সম্প্রতি সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় সম্মত হয়েছে তারা।

এগুলো ছাড়াও আরাকানের আরো ছোট ছোট অনেক বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নবাদী গোষ্ঠী সরকারের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। -আকতারুর্জ্জামান

আরাকান আর্মি নেতার ভিডিও বার্তা

রাঙামাটিতে মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সংগঠন আরাকান আর্মির পলাতক নেতা ডা. রান নিন সো মার্মা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন।

সোমবার সকালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি বলেছেন- ‘নিজেকে প্রশ্ন করছি আমি, কী এমন ভুল করে ফেলেছি যে সমস্ত সংবাদপত্রে আমাকে একজন খারাপ মানুষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে? আমি মানুষকে বিনাপয়সায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। এটি কি মানবতার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ? আমি বহু মানুষকে বিনাপয়সা ওষুধ দিয়েছি। এটি কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ? স্থানীয় মানুষেরা আমার কাছ থেকে খাবার, ওষুধ, কাপড় কতো কিছুই তো পেয়েছে। এসব কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ? কী অপরাধ করেছি আমি? মানুষকে সাহায্য করা অপরাধ?’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন সেনাবাহিনী আমার ঘর ভেঙে ঢুকে পড়লো রাতে? কেন আমার পারিবারিক সম্পদ কেড়ে নেয়া হলো? ল্যাপটপটি আমি আর আমার মেয়ে ব্যবহার করতাম। ওই তিনটি মোটরসাইকেল আমি এবং আমার কর্মচারীরা চিকিৎসা সেবার কাজে, মানবসেবার কাজে ব্যবহার করতাম। কেন তারা পাঁচ লাখ টানা নিয়ে গেলো? ওগুলো আমার ওষুধ কেনার টাকা ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কি এটা ভালো কাজ করেছে?’

নিজেকে সমাজসেব উল্লেখ করে রান নিন সো বলেন, ‘আমি তো ডাক্তার, স্থানীয়দের চিকিৎসা করি। আমি কি কোনো অপরাধ করি? আমি তো বিশ্বাস করি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেককে সাহায্য করার অধিকার আমার আছে। আমার দান করা ঘোড়াগুলো যে বিজিবি এবং আরাকান আর্মির সংঘর্ষের কারণ হয়েছে, তা দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। ওই ১৩টি ঘোড়া আমরা অনুদান হিসেবে দিয়েছিলাম, মানবিক কাজে যাতায়াতের সুবিধার জন্য। আমার এই অনুদান যদি বিজিবির কাছে অবৈধ বলে গণ্য হয়ে থাকে, তো ক্ষমা চাইছি।’

তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারকে আমি আন্তরিক অনুরোধ জানাই—
(১) আমার কর্মচারী এবং রোগীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক।
(২) আমার বাড়ি থেকে সেনা-প্রহরা তুলে নেয়া হোক।
(৩) আমার বাড়ি থেকে কেড়ে নেয়া সকল সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়া হোক।’

সবশেষে তিনি তার ভাইবার নম্বরও (0031645134475) দিয়েছেন। ডা. রান নিন সো থাইল্যান্ড প্রবাসী বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২৬ আগস্ট বান্দরবানের থানচিতে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যরা গুলি চালিয়ে বিজিবির দুই সদস্যকে আহত করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে বিজিবি ও আরাকান আর্মির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলে। একপর্যায়ে পিছু হটে সন্ত্রাসীরা। এর আগে বিজিবির দু’টি দল আরাকান আর্মিদের ১০টি ঘোড়া আটক করে। এর সূত্র ধরে তাদের সঙ্গে হামলা হয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পরের দিন রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় ডা. রান নিন সোর বাড়ি আবিষ্কার করে সেনাবাহিনী। যেখান থেকে আরাকান আর্মির সদস্য অং নং ইয়ং রাখাইন (২৫), বাড়ির দুই কেয়ারটেকার মং চ ওয়াং (৩৯) ও চ সুইং অং মারমাকে (৪২) আটক করা হয়।

সেখান থেকে ২টি ঘোড়া, ৩টি মোটরসাইকেল, ৩টি ল্যাপটপ, ডিজিটাল ক্যামেরা, হ্যান্ডিক্যাম, আরাকান আর্মির পোশাকসহ বেশকিছু জিনিস জব্দ করে যৌথবাহিনী।

এদিকে বান্দরবানের থানচি এলাকা এতোই দুর্গম যে, ৪৩৯ কিলোমিটার এলাকায় কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বাস করলেও সরকারিভাবে কোনো স্থাপনা নেই। গতবছর পর্যন্ত এ রকম অরক্ষিত সীমান্ত ছিল ৫৩৯ কিলোমিটার। তবে এক বছরে ১০০ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।



« (পূর্বের সংবাদ)