মেইন ম্যেনু

আরিচায় বিপদসীমার ৪৪ সেমি ওপরে যমুনার পানি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তাঘাট ভেঙে ও ডুবে গিয়ে এসব এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া বাড়িঘর ডুবে নিম্নাঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির অভাবে পড়েছে অনেক পরিবার। স্থানীয় কৃষকরা ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) রিমন শিকদার জানান, যমুনা নদীর এ পয়েন্টে কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমায় (৯.৪০ মিটার) পৌঁছে। পরদিন বুধবার আরো ১৪ সেন্টিমিটার এবং বৃহস্পতিবার ১৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায়। এর পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ঘণ্টায় ১৪ সেন্টিমিটার হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৮৪ মিটারে পৌঁছেছে।

প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর এই পয়েন্টে পানির স্তর পরিমাপ করা হচ্ছে বলেও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকর্তা।

এর আগে নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, গত কয়েক দিনে যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর শাখা নদী ইছামতী, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকের আলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন, ঢলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও পড়েছে ভাঙনের মুখে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোয় পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর এরই মধ্যে ডুবে গেছে। ফসলের ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্য আসেনি বলেও জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, বর্ষার পানি এমনিতেই জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। এই পানি ফসলি জমিতে আসায় পাটের জন্য ভালো হয়েছে। তবে এই পানিতে রোরো-আমন ধান এক হাজার হেক্টর, রোপার বীজতলার তিন হেক্টর ও পাঁচ হেক্টর শাকসবজির জমি ডুবে গেছে। এক সপ্তাহের বেশি এসব ফসল পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দুর্গতদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুতই দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।