মেইন ম্যেনু

আরো দুটি এটিএম বুথে যান দু’জন বিদেশি

গ্রেফতার হওয়া চীনা নাগরিক জ্যু জিয়ানহুই যখন টাকা তুলছিলেন তখন আরও দু’জন বিদেশি একইভাবে দুটি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলতে যান বলে র‌্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তাদের ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। জ্যুকে বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের কর্মকর্তা মেজর আতাউর রহমান বলেন, ‘জ্যুর কাছ থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তার কাছে জানা গেছে, আরও দু’জন বিদেশি নাগরিক কার্ড ক্লোনিং করে বুধবার একই সময় আরও দুটি ব্যাংকের বুথে যান টাকা তুলতে। ফার্মগেট ও এলিফ্যান্ট রোডে দুটি ব্যাংকের দুটি বুথকে তারা টার্গেট করেন। তবে তারা কোন দেশের নাগরিক তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের দু’জনের ছবিযুক্ত ভিডিও ফুটেজ বুথ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই ব্যাংক দুটির নাম বলা যাচ্ছে না। আর জ্যু আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

নিউমার্কেট থানা পুলিশ সূত্র জানায়, জ্যুর কাছে সৌদি আরবের রিয়াদ ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড পাওয়া যায়। ওই কার্ডটি ক্লোন করে তিনি ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও কয়েকটি দেশে জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করেন। গত ১৫মে তিনি বাংলাদেশে আসেন। এ দেশেও তার একটি চক্র আছে। এই চক্রে আর কারা আছে তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ জন্য তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিভিন্ন দেশেই এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে এই চক্রটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের শত কোটি টাকা জালিয়াতির সঙ্গেও তার সম্পর্ক থাকতে পারে। জ্যু অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। তিনি এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এই পদ্ধতিতে তিনি বাংলাদেশি গ্রাহকদের অর্থ তো বটেই, বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থও বাংলাদেশে বসে হাতিয়ে নিয়েছেন। অর্থ তুলে নেয়ার জন্য তিনি যে সব এটিএম কার্ড ব্যবহার করছিলেন সেগুলোর কোনো নম্বর নেই, কার্ড হোল্ডারের নাম নেই, ব্যাংকেরও কোনো নাম নেই। আর এটিএম কার্ড ক্লোন করার ক্ষেত্রে তিনি ব্যাংকের লোকদের সহায়তা নিয়ে থাকতে পারেন। যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখার লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে বেড়িয়ে আসবে। জ্যুকে রিমান্ডে নিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, জ্যুকে বুধবার দুপুরে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড় এলাকায় প্রাইম ব্যাংকের বুথ থেকে গ্রেফতার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপরই তারা জালিয়াত চক্রটিকে শনাক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠেন।