মেইন ম্যেনু

আরো ২ এলএনজি টার্মিনাল

আরো দুটি তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। ভূমিবেষ্টিত (ল্যান্ড বেজড) টার্মিনাল দুটি বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইন-২০১০ আওতায় দরপত্র ছাড়াই স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে দর কষাকষি করতে জ্বালানি সচিবকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমছে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেই ২০১০ সাল থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে সরকার। তবে টার্মিনাল নির্মাণসহ কোনো কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। বঙ্গোপসাগরে একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এ উদ্যোগটির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের ভূমি বেষ্টিত একটি টার্মিনালের নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে।

নতুন উদ্যোগের টার্মিনাল দুটি মহেশখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকায় নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুসারে প্রতিটি টার্মিনাল এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন (পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর) ক্ষমতার হবে।

সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি বিভাগ ভূমি বেষ্টিত এলএনজি টার্মিনালের প্রাক সাম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা মিলবে। পায়রা বন্দর এলাকায় টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণে নৌ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

জানা গেছে, অনেক বিদেশি কোম্পানি টার্মিনাল নির্মাণে জ্বালানি বিভাগের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে। এরমধ্যে ভারতে রিয়েলেন্সসহ চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের অনেক কোম্পানি রয়েছে। এই কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই বাছাই করতেই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের উপ-সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুসারে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব। অন্য সদস্যরা হলেন, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।

এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধিও কমিটিতে রয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত করতে সবপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভাসমান টার্মিনালটি নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করছে পেট্রোবাংলা। আগামী মাসে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে। প্রাথমিক চুক্তিতে রিগ্যাসিফিকেশনের মূল্য ৪৭ সেন্ট ধরা হয়েছে। মহেশখালীর গভীরসমুদ্রে এ টার্মিনাল নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করব অ্যাস্ট্রা ওয়েল। ওই প্রতিষ্ঠানটি কাজ শেষ করতে ১৬ মাস সময় লাগবে। এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। টার্মিনালটি ১৫ বছর অ্যাস্ট্রা ওয়েলের মালিকানায় থাকবে। এরপর মালিকানা পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্য দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলও মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে একটি ভূমিবেষ্টিত এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বছরে ৩৫ লাখ টন এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের ক্ষমতাসম্পন্ন টার্মিনাল নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৫টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্য থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে পাওয়ার সেল। এগুলো হলো ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি, অ্যাংলো-ডাচ সুপার মেজর শেল, চীনা হুয়াংকিউ কনট্রাকটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বেলজিয়ামের ট্র্যাক্টেবেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাপানের মিত্সুই।

এদিকে দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম কয়েকগুন বেড়ে যাবে। কারণ দেশীয় গ্যাসের চেয়ে এলএনজির সরবরাহ মূল্য বেশি হবে।