মেইন ম্যেনু

আর্জেন্টিনার ভিলেন মেসি নয় হিগুয়েন

গ্যারি মেদেলের দেয়া ভুল পাসে বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন হিগুয়েন। সামনে শুধু চিলির গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভো। হিগুয়েরন মোটামুটি ৫-৬ হাত পেছনে চিলির ডিফেন্ডার। ক্লাব ফুটবলে এমন গোল হরহামেশাই করেছেন নাপোলির হিগুয়েন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮২ হাজার দর্শকের মনে সুপ্ত আশা হিগুয়েন নিশ্চয়ই গোল দিতে পারবে এটি। কিন্তু হায়! ব্রাভোর উপর দিয়ে যে শটটি মারলেন সেটি বারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে গেল।

হিগুয়েনের এমন ‘অকল্পনীয়’ মিস এর আগেও ফাইনালে দেখেছে বিশ্ববাসী। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথাই ধরা যাক না। সেবার জার্মানির বিপক্ষে ম্যাট হামেলসের ভুল পাসে ম্যানুয়েল নয়্যারকে একা পেয়ে গোলবারের বাইরে বল মারেন হিগুয়েন। ক্লাব পর্যায়ে শত শত গোল করা হিগুয়েন ফাইনালের মঞ্চে হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার বড় ‘বাঁধা’। এই বাঁধার শিকলে বন্দী আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির নূন্যতম একটি শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু এক বছর আগে হওয়া কোপার ফাইনালেও হিগুয়েনের মিসটি ছিল চোখে পড়ার মত। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে লাভেজ্জির ক্রস থেকে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল, ঠিক এমন অবস্থাতেও ক্লদিও ব্রাভোর বিপক্ষে গোল করতে পারেননি হিগুয়েন।

শতবর্ষী কোপা আমেরিকায় ম্যাচের ২৩ মিনিটে হিগুয়েনের স্বভবসুলভ মিসের খেসারত আবারো দিতে হল আর্জেন্টিনাকে। ২৩ বছরের শিরোপাখরা ঘোচাতে পারলো না। চিলির বিপক্ষে শতবর্ষী কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারের ৪-২ গোল হেরে বিমর্ষ অবস্থায় টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতেই ফিরতে হলো মেসিদের।

অথচ টাইব্রেকারেও কি না পাল্লা ভারি ছিল আর্জেন্টিনার। চিলির করা প্রথম শটই রুখে দেন রোমেরো। কিন্তু মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম শটটি নিতে এসে মিস করলেন। আর এতেই শিরোপা জয়ের যে ক্ষীণ আশাটুকু ছিল সেটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যতদিন হিগুয়েনদের মত ফাইনালে অতিমাত্রায় খারাপ খেলা ফুটবলাররা খেলতে থাকবে ততদিন আর্জেন্টিনার এমন বাজে দিন দীর্ঘায়িত হতে থাকবে।