মেইন ম্যেনু

আর্থিক সংকটে প্রিন্স মুসা !

আর্থিক সংকটে ভুগছেন আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসের (প্রিন্স মুসা)। আর তা তিনি নিজেই স্বীকার করছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে লেখা চিঠিতে আর্থিক সঙ্কটে থাকার কথা বলেছেন প্রিন্স মুসা। দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হলে মঙ্গলবার দুপুরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ডাক্তারের সার্টিফিকেটসহ তিন মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন প্রিন্স মুসা।

যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পূনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক সময় বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে গ্যাটকোর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু আজ সুইস ব্যাংকসহ বাংলাদেশে তার অর্জিত সম্পদ আটকে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

চিঠিসূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তাছাড়া কিছুদিন থেকে মৃত্যু-আতঙ্কে (ডেথ ফোবিয়া) রোগে ভুগছিলেন। যদিও সেই রোগ অনেকটা আরোগ্য লাভের পথে। বর্তমানে তিনি ডাক্তারের পরামর্শে দুই থেকে তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণ বেড রেস্টে রয়েছেন। সেজন্যই দুদকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন স্বঘোষিত ধনকুবের প্রিন্স মুসা।

এ বিষয়ে ল্যাব-এইডের এক চিকিৎসক (হৃদরোগ বিশেসজ্ঞ) ও ব্যক্তিগত এক চিকিৎসকের অর্থ্যাৎ মোটি দুটি সনদ যুক্ত করে দুদককে চিঠি পাঠান মুসা বিন শমসের। আর ওই চিঠির অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যান, সংস্থার দুই কমিশনার, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক, একই বিভাগের পরিচালক এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বরাবর পাঠিয়েছেন। তবে দুদক থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছেন।

সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার করেছেন এমন অভিযোগ অনুসন্ধানে তাকে আজ (১৩ জানুয়ারি) জিজ্ঞাসাবাদ করতে তলব করেছিল দুদক। চলতি মাসের ৪ জানুয়ারি মুসাকে এ বিষয়ে চিঠি দেয় দুদক।

দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে যে ১২ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকার হিসাব দিয়েছেন সে বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনেই তাকে তলব করা হয়েছিল।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুসাকে প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জব্দকৃত অর্থের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন প্রিন্স মুসা।

২০১৫ সালের ৭ জুন সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। ওই বছরের ১৯ মে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। সম্পদ বিবরণীতে প্রিন্স মুসার মোট ১২ বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে আটক রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)। যা নিয়ে মুসা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দুদককে জানিয়েছেন। তবে আইনগত বাধা-নিষেধের অজুহাতে ওই যৌথ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য দুদককে দেননি মুসা।

ওই তথ্যের সূত্র ধরে গেল বছরের শেষ দিকে মুসার ওই সম্পদের অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়। শুধু মুসা বিন শমসেরের নামে দেওয়া চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের কোনো ব্যাংকে ওই নামে কোনো হিসাব নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই। ওই জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে মুসার স্ত্রী, সন্তানদের নামে কোনো হিসাব আছে কিনা তা জানতে আবারো চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের এ অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি। তিন বছর পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘বিজনেস এশিয়া’ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আবারও নতুন করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এরপর ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক (বর্তমান পরিচালক) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।