মেইন ম্যেনু

আলমারি থেকে এখনই ফেলে দিন এসব জঞ্জাল

ট্রাঙ্ক বা স্যুটকেস থেকে শীতের পোশাক বের করা শুরু করেছেন অনেকেই। কেউ বা এই ছুতোয় কিনে ফেলছেন নতুন নতুন পোশাক। গোছগাছের এই সময়ে আমরা অনেক কিছুই আলমারিতে জমিয়ে রেখে দেই যেগুলো আসলে কোনো কাজেই আসে না, এক কথায় জঞ্জাল। এই গোছগাছের সময়টাতেই অপ্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় বের করে ফেলুন আপনার আলমারি থেকে। দেখে নিন এই কাজটি করার দারুণ কিছু কৌশল।

অনেকেই ভাবেন খুব বেশি সময় লাগবে গোছগাছ করতে, আর এই ভয়ে তারা আলমারিতে হাতই দেন না মাসের পর মাস। যারা এমন গোছগাছকে ভয় পান, তাদের জন্য রয়েছে Huffington Post এর ছোট কিছু টিপস। তারা বলছে, সবকিছু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে না। বরং এই কয়েকটি জিনিস ফেলে দিতে পারলেই দেখবেন অদরকারী জিনিস অনেক কম গেছে।

১) ঘামের দাগ লাগা পোশাক। ঘামের দাগ তুলতে না পারলে এগুলো ফেলে দিন এক্ষণই।

২) পুরনো ঝরঝরে অন্তর্বাস।

৩) রংচটা, ছেঁড়াখোঁড়া জুতো।

৪) ভুসকো ওঠা পুরনো সোয়েটার।

৫) এমন কোনো অলংকার যেটা পড়লে আপনার ত্বকে সবজেটে দাগ পড়ে।

৬) এমন পোশাক যেটা এখন আর আপনাকে ফিট করে না। বিশেষ করে জিন্স।

এগুলো তো বের হয়ে গেল আপনার আলমারি থেকে। আপনার ধৈর্য যদি আরেকটু বেশি হয়, তাহলে আসুন একটু নিয়ম মেনে জিনিসপত্র বের করি। জিনিস বের করে রাখার জন্য তিনটা বাক্স, ঝুড়ি অথবা চেয়ার আলাদা করে ফেলুন। একটায় রাখবেন এমন সব কাপড় যেগুলো ফেলে দিতে হবে, একটায় রাখবেন দান করে দেবার মতো কাপড়গুলো, আরেকটায় রাখবেন সেসব কাপড় যেগুলো রাখবেন না দান করে দেবেন মনস্থির করতে পারছেন না। যেসব কাপড় রাখবেন নিশ্চিত সেগুলো থাকবে আপনার আলমারির ভেতরেই।

১) আপনি সবসময় পরেন এমন পোশাকগুলো রাখুন। সেই সাথে রাখুন এমন কাপড়গুলো যেগুলো ভালো মানের এবং আপনাকে সেটা পরলে দেখতেও ভালো লাগে।

২) গত ৬ মাসে আপনি পরেননি, এমন কাপড় চোখ বুজে বের করে ফেলুন আলমারি থেকে। এতদিনেও যখন পরা হয়নি তারমানে আর পরা হবেনা। এগুলো রাখা মানে জঞ্জাল বাড়ানো।

৩) নতুন পোশাক যাতে এখনও ট্যাগ ঝুলছে, অথচ গত তিন মাসে আপনি পরেননি, এগুলো নিয়ে কী করবেন? হয়তো আপনি এর ব্যাপারে ভুলেই গেছিলেন, অথবা এটা পরতে ইচ্ছেই করেনি। পরতে ইচ্ছে না করলে এটাও দান করার স্তূপে চলে যাবে।

৪) যেসব পোশাক আপনাকে ফিট করেনা অথবা পরতে অস্বস্তি বোধ হয়, এগুলো দান করে দিন।

৫) যেসব পোশাক ছেঁড়াখোঁড়া, ব্যবহার করতে করতে ফিনফিনে হয়েছে, রঙ জ্বলে গেছে অথবা পরার অযোগ্য হয়ে গেছে, এগুলো ফেলে দেবার স্তূপে রাখুন। এগুলো অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন ছেঁড়া একটা শাড়ি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিলে এটা থেকে কাঁথা বা পাখা তৈরি করা যাবে। ছেঁড়া শার্ট বা মোজা ঘরে মোছামুছির কাজে লাগবে।

৬) আপনি যদি ট্রেন্ডি পোশাক আশাক পরে থাকেন তবে আপনার কাজে লাগবে এই টিপসগুলো। ফেলে দিন, অন্য কাউকে দিয়ে দিন বা বিক্রি করে দিন এই জিনিসগুলো-

– এমন কোনো ফর্মাল পোশাক যা আপনি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করে মাত্র একবার পরেছেন, আর কখনো পরার ইচ্ছে নেই
– এমন কোনো জুতো যা পরে আপনি হাঁটতে কষ্ট পান
– এমন কোনো শীতের পোশাক যা আপনি পরেন না
– এমন পোশাক যা মেরামত করতে দর্জির কাছে নিয়ে যেতে হবে অথচ আপনার সময়ই হয়ে ওঠে না
– খুব বেশি দাম দিয়ে কিনেছেন, কখনো পরেননি অথচ দামের জন্য বাদ দিয়ে দিতে কষ্ট লাগছে, এমন জিনিস অন্য কাউকে দিয়ে দিন আজই

৭) ইলাস্টিক নষ্ট হয়ে গেছে এমন কাপড়, যেমন অন্তর্বাস, প্যান্ট, স্কার্ট, মোজা ইত্যাদি ফেলে দিন এখনই। আবার এক জোড়া মজার একটি হারিয়ে গেলে অন্যটি রেখে দেবেন না, এটাকেও ফেলে দিন।

৮) খুব সুন্দর একটি পোশাক, অথচ আপনাকে মানাচ্ছে না মোটেই- এমন পোশাক রাখবেন না আলমারিতে। মায়া ত্যাগ করে দান করে দিন। এমন কেউ সেটা পরতে পারবে যাকে পোশাকটা আসলে মানাচ্ছে।

৯) পুরনো ফ্যাশনের পোশাক বাসায় পরতে পারেন। বাইরে পরার মতো হলে সেটা আর না রাখাই ভালো।