মেইন ম্যেনু

আ’লীগ নেতার ভয়ে বাড়িছাড়া বিধবা ফাতেমা

কথিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুমকির ভয়ে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বিধবা ফাতেমা বেগম। কয়েকদিন ধরে তিনি পালিয়েছিলেন তার আত্মীয়দের বাড়িতে। এ ঘটনা জানার পর তার আশ্রয় হয়েছে রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রার্থী তোফায়েল হোসেনের বাসায়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার বাড়ির দরজায় দুটি তালা লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলামের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে চাঞ্চল্যের তৈরি হয় সদর উপজেলার ৯নং রায়পুর ইউনিয়ন জুড়ে। ঘটনাটি ওই ইউনিয়নের মটরা চেয়ারম্যান পাড়ার। বিধবা ফাতেমা ওই এলাকার মৃত আলিম উদ্দীনের স্ত্রী।

ফাতেমা বেগম জানান, ওইদিন (মঙ্গলবার) ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে দেখি আমার ঘরের দরজায় দুটি তালা লাগানো। আমি প্রতিবেশীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় কয়েকজন লোক তালা দুটি লাগিয়ে গেছে।

চার পাঁচজন লোক এসেছিল তাকে খুঁজতে। এ সময় তারা জোরে জোরে বলছিল ফাতেমার এত বড় সাহস আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এলাকায় বসবাস করে ধানের শীষের নির্বাচন করছে। এ সময় ও লোকগুলো তার ঘরের দেয়ালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর একটি পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে দুটি তালা মেরে দিয়ে গালিগালাজ করতে করতে চলে যায়। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তাদের চেহারা কেউ দেখতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘তাদের ভয়ে এখন বাড়িতে যেতে সাহস পাচ্ছি না। যদি তারা আমার ক্ষতি করে।’

এ ব্যাপারে ফাতেমার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দুইজন বৃদ্ধা নারী (৫০) পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, বাপু জলত বাস করে কুমিরের সঙ্গে ঝগড়া করা যাবেনি। হামরা একই এলাকার লোক। নুরুল তো ভালো লোক। তার সঙ্গের কিছু লোক খারাপ। ওমহালাই এইলা কাম করেচে।

তবে এ ব্যাপারে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফাতেমার কোনো ভয় নেই। সে যেকোনো সময় বাড়িতে আসতে পারে। জানিনা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদও জানান।

এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী তোফায়েল হোসেন জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনার পর ফাতেমাকে আমার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। তিনি তার বাড়িতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সদর থানা পুলিশের ওসি মসিউর রহমান জানান, এ ব্যাপারে থানা পুলিশ কিছুই জানেনা। তাছাড়া এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।