মেইন ম্যেনু

আল্লাহর দরবারে যাদের দোয়া সরাসরি কবুল হয়

দোয়া শব্দের অর্থ ডাকা, মিনতি করা। মুনিবের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর যেমন একজন চাকরের প্রাপ্তি নির্ভর করে তেমনি একজন মানুষের জীবনের সাফল্য নির্ভর করে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। আর আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে ডাকার দ্বারা। বেশি বেশি দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন।

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে বলেছেন, ‘আমায় ডাকো; আমি উত্তর দেব (তোমাদের প্রার্থনার)।’ এই আয়াতের আলোকে মুসলমানেরা সব ধরনের প্রয়োজনে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করেন।

ইসলামের বিধানে আল্লাহ তায়ালা যেসব ব্যক্তির দোয়া দ্রুত কবুল করেন তারা হলেন অতি নিগৃহীত পেরেশান ব্যক্তি, অত্যাচারিত ব্যক্তি, মাতা-পিতার দোয়া সন্তানের জন্য সন্তান ভালো হোক বা মন্দ, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ও বিচারকের দোয়া, আদর্শপরায়ণ ও সৎলোকের দোয়া (অবশ্য সম্পর্ক ছিন্ন বা কোনো পাপের কাজে জড়ানো থেকে মুক্ত হতে হবে), উত্তম চরিত্রবান ও আদর্শ সন্তানের দোয়া মাতা-পিতার জন্য, মুসাফিরের দোয়া সে দোয়া চাই নিজের জন্যই হোক বা অন্য কারো জন্য, এক মুসলমানের দোয়া আরেক মুসলমানের জন্য তার অনুপস্থিতিতে, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, তওবাকারীর দোয়া।

এই শ্রেণির লোক ছাড়াও আল্লাহ তায়ালা আরও যাদের দোয়া দ্রুত কবুল করেন, তারা হলেন যে ব্যক্তি ‘ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম’বলে দোয়া করে, যে ব্যক্তি ‘ইয়া আরহামার রাহিমীন’বলে দোয়া করে, যে ব্যক্তি তিনবার জান্নাত চেয়ে দোয়া করে, যে ব্যক্তি দোযখের আগুন থেকে তিনবার মুক্তি চায়, হজ পালনকারীরা হজের পুণ্যময় আহকাম পালন শেষে যতক্ষণ বাড়ি প্রত্যাবর্তন না করেন, ততক্ষণ তাদের দোয়া কবুল হতে থাকে।

যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করে, ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোয়ালিমীন’ এবং যে ব্যক্তি গোটা বিশ্বের মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করে দৈনন্দিন ইস্তিগফার পাঠ করে, তার দোয়াও নিশ্চিত কবুল করা হয়।

আল্লাহর কাছে চাইতে হবে বিনয়ের সঙ্গে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া কর। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমণ্ডলে বুলিয়ে নাও’ [আবু দাউদ]। দোয়া করার সময় আকুতি ভরা কণ্ঠে আল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে হবে।

কান্না না এলেও অন্তত কান্নার ভান করতে হবে। নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব বান্দা যত ফুটিয়ে তুলতে পারবে আল্লাহ তত দ্রুত সেই ডাকে সাড়া দেবেন।

দোয়া করতে হবে হাত তুলে। বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশের জন্য দোয়ার সময় দুই হাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দুই হাতের মধ্যে ২/১ আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে।

হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরিফসহ দোয়া করা। এক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরিফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।’

হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন’।

আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে দেয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত। তবে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে তার শান অনুযায়ী। যিনি আহকামুল হাকিমীন সারা জগতের বাদশা তার দরবারে কিছু চাইতে হলে তো আরো বেশি নিয়মনীতি মেনে চাইতে হবে। সঠিক নিয়মে দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই সেই দোয়া কবুল করবেন।