মেইন ম্যেনু

‘আল্লাহু আকবর’- শুনেই বিমানে মৃত্যু-আতঙ্ক

আল্লাহ্ হু আকবর’– ২৯ বার!
‘মৃত্যু এগিয়ে আসছে’– ১৭ বার!
‘আমরা মরতে চলেছি’– ৯ বার!
কোনো বইয়ের পাতায় লেখা বাক্যের গুনতি নয়৷
গুনে গুনে নাটকের রিহার্সালের সংলাপ মুখস্থ করাও নয়৷ তবে?
গ্যাটউইক থেকে ভেনিস যাচ্ছিল বিমানটি৷ তখন মাঝআকাশ৷ আচমকাই আতঙ্কে হিম হয়ে যায় সিটে বসে থাকা যাত্রীদের শিরদাঁড়া৷ কেউ পাশে, কেউ বা পিছনে তাকিয়ে দেখতে পান, এক ব্যক্তি ক্রমাগত আউড়ে চলেছেন এই বাক্যগুলি৷ প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে! বিরামহীন! ততক্ষণে ইজি জেট-এর যাত্রীদের আত্মারাম খাঁচায়!

প্যারিস, অরল্যান্ডো, ব্রাসেলসে একের পর এক আইএস সন্ত্রাস৷ এর জেরে ইতিমধ্যেই ‘ইসলামোফোবিয়া’র থাবা বসেছে পশ্চিমের মানচিত্রে৷ তার উপর এই ঘটনা৷ অর্থাৎ একে মৃত্যুভয় দেখানো, তায় আবার ‘আল্লাহ্’র নাম৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে যায় গ্যাটউইক থেকে ভেনিসগামী যাত্রীদের মুখ৷ দুঃস্বপ্নের ওই ১২০ মিনিট তাদের কাছে প্রায় ১২০ বছরের সমান হয়ে ওঠে৷ নিরুপায় হয়ে কাঁদতে শুরু করেন তাঁদের অনেকেই৷ করুণ ছবিটি ধরা পড়ে এক যাত্রীর মোবাইলে তোলা ১১ মিনিটের ভিডিওয়৷
লুসি অসুলিভান নামের আর এক যাত্রীর জবানিতে ধরা পড়ে ওই দুঃসহ দু’ঘণ্টার অসহায়তা৷ “আমাদের মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারব না৷ শুধু মনে হওয়া নয়, আমরা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলাম৷ কারণ কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, ওই ব্যক্তিটিই বা কে– কোনো কিছুই ঠাওরাতে পারছিলাম না৷ তখন শুধুই মৃত্যুর প্রতীক্ষা৷ এই প্রথম এত কাছ থেকে মৃত্যুভয় অনুভব করলাম৷ তবে বেশ কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে আবিষ্কার করি, ওকে ঘিরে ধরেছে অনেকে৷ বন্ধ করানো হয়েছে মুখের বুলি৷”
এরপর হোম অফিসের আধিকারিকরা ওই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরান৷ হোম অফিস সরকারের অভিবাসন ও সন্ত্রাসদমন সংক্রান্ত বিভাগ তাকে কড়া নজরদারিতেও ঘিরে রাখেন৷-নয়া দিগন্ত