মেইন ম্যেনু

আশরাফুলের রেস্তোরাঁয় তরুণ-তরুণীদের ভিড়

নিয়মিত বাসার খাবার খেয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন অনেকে। তাই সময় পেলেই পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ছুটে যান কোনো পছন্দের রেস্তোরাঁয়। আড্ডায় আর খাবারের রকমারি স্বাদে পার করেন পুরোটা সময়।

হুট করে এমনটি যদি হয়, যে ভেবে পাচ্ছেন না কোন রেস্তোরাঁয় যাবেন বা কীভাবে যাবেন। আবার এমনও ভাবছেন, যেখানে যেতে চান ওই রেস্তোরাঁটা ভালো মানের স্বাস্থ্যকর খাবার পাবেন কিনা!

এসব প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক রেখেই চলে যেতে পারেন রাজধানী বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দিরের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের ‘সিচুয়ান চায়নিজ অ্যান্ড ফাস্ট ফুড’ রেস্টুরেন্টে।

রেস্তোরাঁর ভেতর পা রাখা মাত্রই সুস্বাদু খাবারের মোহনীয় সুবাসে আপনার জিবে জল আসতে পারে। মনোরম পরিবেশ আর নজর কাড়া সব খাবার দেখে, কিছুতেই না খেয়ে ওঠতে মন চাইবে না। এশিয়ার দেশগুলোর রকমারি খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে রেস্তোরাঁটিতে। কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে যদি হাজির হোন এখানটায়, আপনারও মুগ্ধতায় কেটে যাবে খানিকটা সময়।

কেউ আবার রেস্তোরাঁয় ছুটে যান প্রিয় খেলোয়াড়ের ভালোবাসার টানে। তেমনি একজন, নাম মরিয়ম আক্তার। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী। কিছুটা আবেগঘন অনুভূতি থেকেই বললেন, ‘আশরাফুল আমার প্রিয় খেলোয়াড়। তাঁর খেলা খুবই ভালো লাগে। তিনি মাঠে নেই কিন্তু ভালোবাসার টান থেকেই রেস্তোরাঁয় আসা।’

বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। নগরের ব্যস্ত মানুষগুলো তখন ঘরে ফেরায় ব্যাকুল। ঠিক তখনই ঝাঁকে ঝাঁকে তরুণ-তরুণীরা আসতে শুরু করল সিচুয়ানে। এ যেন এক মিলনমেলা! এক্সকিউজ মি, একটু কথা বলতে পারি? ‘হ্যাঁ শিওর।’ সিচুয়ানে কি আজই প্রথম আসা? ‘না আসা হয়, তবে বিশেষ দিনগুলোতে একটু বেশি।’

খাবারের স্বাদ আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছে আশরাফুলের ‘সিচুয়ান চায়নিজ অ্যান্ড ফাস্ট ফুড’ রেস্টুরেন্টটি। ৩০ কিংবা তার কিছু বেশি, এমন বয়সের একজন নারী রেস্তোরাঁর গেইট দিয়ে মাত্র প্রবেশ করবেন এমন সময় জানতে চাওয়া, আপনি কি এখানে নিয়মিত আসেন? ‘আমি প্রায়ই আসি।’ এখনকার খাবারের মান কেমন? ‘বেশ সুস্বাদু। পরিবেশনটা দারুণ।’ কেমন দাম? ‘দামটা মনে হচ্ছে কিছুটা বেশি। তারপরও খাবারের স্বাদ আর মানের কারণে আসা হয়।’

একটু আগ বাড়িয়ে রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে জিজ্ঞাস করলাম, কেমন চলছে সিচুয়ান? ‘এককথায় ভালোই তবে রমজানের কারণে এখন বিক্রি কিছুটা কম।’ কোন বয়সের মানুষ বেশি আসছেন? ‘আসলে ফাস্ট ফুড আর চায়নিজ নির্ভর হওয়ায় তরুণ-তরুণীদের আনাগোনাটাই একটু বেশি।’

জমজমাট আশরাফুলের পার্টি সেন্টারও:

রাজধানী ওয়ারির ১/১ র‌্যাঙ্কিন ষ্ট্রিট রোডে আশরাফুলের ‘সিচুয়ান গার্ডেন’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টার রয়েছে। যেখানে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিয়ে, বৌ ভাত. জন্মদিন ও বিভিন্ন পারিবারিক প্রোগ্রামে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

সবমিলিয়ে এ এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আড্ডা দেয়া, সময় কাটানো বা খাবারের স্বাদ সবই মিলবে এ রেস্তোরাঁয়। ছুটির দিনে বা সময় করে আপনিও চলে আসতে পারেন বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দিরের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত আশরাফুলের ‘সিচুয়ান চায়নিজ অ্যান্ড ফাস্ট ফুড’ রেস্টুরেন্টে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১০ জুন ১১ বন্ধু মিলে এই চায়নিজ রেস্টুরেন্টটি খুলেছিলেন। জানা যায়, চায়নিজ একটা মসলার নামানুসারে রেস্টুরেন্টটির নামকরণ করা হয়েছিল।