মেইন ম্যেনু

‘আশা ছিল ছেলে কোরআনে হাফেজ হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো জঙ্গি’

কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর মায়ের কান্না যেন থামছেই না। তার আশা ছিল ছেলে বড় হয়ে কোরআনের হাফেজ হবে, বড় আলেম হবে। এখন তিনি জানলেন তার ছেলে হয়েছে দুর্ধর্ষ জঙ্গি। বলতে বলতে মুর্ছা যান আব্দুল্লাহর মা মোসলেমা বেগম।

এ ছাড়া রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জনের মধ্যে দিনাজপুরের জঙ্গি মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহর লাশ ‘ঘৃণায়’ দাফন করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে গ্রামবাসী।

মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের সোহরাফ আলী ও মোসলেমা বেগমের ছেলে। বুধবার রাতে পরিচয় জানার পর এলাকাবাসী ওই জঙ্গির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে।

লাশ দাফন করা নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কোনো জঙ্গির লাশ আমরা এলাকায় দাফন করতে দিব না।

প্রতিবেশী কাঠ ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম জানান, আব্দুল্লাহ এলাকায় ভালো ছেলে ছিল। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। তবে দীর্ঘ এক বছর সে এলাকায় আসেনি। সে জঙ্গি হওয়ায় তার লাশ আমরা এলাকায় দাফন করতে দেব না।

আব্দুল্লাহর মেজভাই আবুল কালাম জানান, তারা পাঁচ ভাই ও এক বোন। বড় ভাই ও বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ভাই কাঠমিস্ত্রির কাজ এবং সবার ছোটভাই লেখাপড়া করেন। আব্দুল্লাহ স্থানীয় বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে হিলি মাদরাসায় ভর্তি হয়।

পরে সেখান থেকে নওগাঁ জেলার নজিপুর উপজেলার আলাদিপুর মাদরাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার এক আলিয়া মাদরাসায় ফাজিল ১ম বর্ষে ভর্তি হন। এরপর থেকে গত একবছর ধরে সে আর বাড়িতে আসেনি। তবে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হতো। সর্বশেষ ৭/৮ দিন আগে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তখন আব্দুল্লাহ বলেছিল, মেরিন ইউনিটে সে চাকরির চেষ্টা করছে। আগামী ঈদে সে বাড়িতে আসার কথা বলেছিল।

আব্দুল্লাহর মা মোসলেমা বেগম বলেন, ‘আশা ছিল, ছেলে কোরানের হাফেজ হবে, আলেম হবে। বড় হয়ে সংসার চালাবে। কিন্তু এখন শুনছি সে জঙ্গি হয়েছে। এ কথা বলেই তিনি মুর্ছা যান।’

নবাবগঞ্জ থানার ওসি ইসমাঈল হোসেন জানান, জঙ্গি আব্দুল্লাহ নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোন তথ্য নেই এবং থানায় কোনো জিডিও করা হয়নি। বুধবার রাতেই তার বাবা সোহরাফ হোসেন এবং বড় ভাই নুরুল ইসলামকে আটক করে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।