মেইন ম্যেনু

আশুলিয়া থেকে জঙ্গি শফিকুলের চাকুরিদাতা মিলন হোসাইন গ্রেফতার, ৫ দিনের রিমান্ড

Milonটিপু সুলতান (রবিন) সাভার প্রতিনিধিঃ গুলশানে জঙ্গি হামলা চালানোর সময় সেনাবাহিনীর অপাশেন থান্ডার বোল্টে নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জলকে আশুলিয়ার একটি স্কুলে চাকুরি দেওয়ার অভিযোগে মিলন হোসাইন নামের এক স্কুল শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই স্কুল শিক্ষক বর্তমানে পাচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তবে তার পরিবারের দাবি তিনি কোন জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত নয়। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার সকালে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফ করার কথা থাকলেও পুলিশ কোন ব্রিফ না করে এ বিষয়ে মিডিয়া কর্মীদের সাথে সকল প্রকার তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মিলন হোসাইন লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার বতকিবাড়ি এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার ভাদাইল পবনারটেক এলাকার পিয়ার আলী স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন। এর আগে তিনি জামগড়া এলাকার মাদারী মাদবর মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় চাকুরি করতেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি ওই স্কুল থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, রাজধানী গুলশানে হোটেল আর্টিসানে জঙ্গি হামলা চালানোর সময় নিহত ৫ জঙ্গির মধ্যে শফিকুল ইসলাম উরফে উজ্জল আশুলিয়ার মাদারী মাদবর মেমোরিয়াল স্কুলে এক সময় চাকুরি করতেন। আর তাকে এই চাকুরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গ্রেফতারকৃত মিলন হোসাইন। ওই জঙ্গিকে চাকুরি দেওয়াসহ তাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে মিলন হোসাইনকে গত শনিবার আটক করা হয়। পরে তাকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে পাঠালে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে মিলন হোসাইনকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানানো হলেও তার কর্মস্থল পিয়ার আলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানান, গত ১৩-০৭-১৬ ইং রোজ বুধবার তাকে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী ও এক আশুলিয়া থানার ওসি পরিচয় দিয়ে দুই ব্যক্তি স্কুলে আসেন। এবং তার জিবন বৃত্তান্তটি নিয়ে যায়। এছাড়া ওই শিক্ষক স্কুল থেকে বের হয়ে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর থেকেই তিনি স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে এই শিক্ষক কোন জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই স্কুল শিক্ষক বলেন, মিলন হোসাইন গত ১৬-০৩-১৬ ইং তারিখে তাদের স্কুলে শিক্ষকতায় পেশায় যোগদান করেন। এই ৩ মাসের মধ্যে তিনি ও তার স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা তার মধ্যে কোন জঙ্গি কর্মকান্ড সংশ্লিষ্ট কিছু দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন।

অপরদিকে, মিলন হোসাইনের ভাড়া বাড়ি ভাদাইল পবনারটেক এলাকার আব্দুল হকের বাড়ি গিয়ে জানা যায়, তিনি গত তিন মাস আগে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়ে সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তবে ওই বাড়ির মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়ারাও তার মধ্যে কোন অসঙ্গতি দেখতে পাননি বলে জানান। বর্তমানে মিলন হোসাইনের স্ত্রী ও শিশু সন্তান কোথায় আছেন জানতে চাইলে ওই বাড়ির মালিক আব্দুল হকের স্ত্রী জানান বর্তমানে মিলন হোসাইনের স্ত্রী ভাদাইল এলাকায় তার বাবার বাসায় আছেন।

ভাদাইল পূর্ব পাড়া এলাকায় মিলন হোসাইনের শশুড় বাড়ি গিয়ে কথা হয় তার স্ত্রী জহুরা আক্তারের সাথে। তিনি জানান, গত ২০ রোজায় তিনি ও তার স্বামী ঈদের ছুটিতে লালমনিরহাট শশুড় বাড়ি চলে যান। সেখান থেকে তার স্বামী গত ১২-০৭-১৬ ইং তারিখে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় তাদের বাড়া বাসায় চলে আসেন। পরে তিনি পরের দিন বুধবার স্কুলে গেলে আশুলিয়া থানার ওসি পরিচয় দিয়ে তাকে কে বা কারা ধরে নিয়ে গেছে শুনতে পেয়ে লালমনিরহাট থেকে তিনি আশুলিয়া চলে আসেন। পরে তিনি ও তার স্বজনরা আশুলিয়া থানায় যোগাযোগ করলে মিলন হোসাইনকে পুলিশ ধরে আনে নাই বলে জানানো হয়। এরপর শুক্রবার তারা আশুলিয়া থানায় একটি নিখোজ ডায়েরী করতে গেলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের মোবাইল ফোনে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন।

এবং রবিবার মিলন হোসাইনকে আদালতে তুলা হবে, তখন তাকে তারা দেখতে পাবেন বলে জানান। পরে রবিবার দুপুরে আদালতে গেলে মিলন হোসাইনকে তারা দেখতে পায়। তবে তার সাথে পুলিশ তাদের কোন কথা বলতে দেননি বলেও জানান জহুরা আক্তার। তার স্বামীকে কি কারনে পুলিশ গ্রেফতার করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে পুলিশ এখনও আমাদের পরিস্কার করে কিছু জানায়নি। তবে তিনি লোক মুখে শুনেছেন তার স্বামীকে গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলামকে আশুলিয়ার একটি স্কুলে চাকুরি দেওয়ার অভিযোগ গ্রেফতার করেছে। জহুরা বেগমের দাবি নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলামের সাথে তার স্বামী কোন জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত নয়। তারা দুজনেই এক সময় আশুলিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। পরে সেখান থেকে তিনি জামগড়া এলাকার মাদারী মাদবর মেমোরিয়াল স্কুলে চাকুরি নিয়। এক সময়ে মাদারী মাদবর মেমোরিয়াল স্কুলে আরও শিক্ষকের প্রয়োজন পড়ছে মিলন হোসাইন পূর্ব পরিচতি হওয়ার শফিকুল ইসলামকে চাকুরি দেওয়ার জন্য স্কুল মালিক সিরাজুল ইসলামকে অনুরোধ করেন। পরে স্কুল মালিক সিরাজুল ইসলাম তাকে তার স্কুলে চাকুরি দেন।

এ বিষয়ে জানতে মাদারী মাদবর মেমোরিয়াল স্কুলের মালিক সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মিলন হোসাইনের অনুরোধেই তিনি তার স্কুলে শফিকুল ইসলামকে চাকুরি দিয়েছিলেন। তারা দুজনেই এক সাথে তার স্কুলে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস চাকুরি করার পর মিলন হোসাইন তার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এর পরে প্রায় বছর দেড়েক পরে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শফিকুল ইসলামও পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে চাকুরি ছেড়ে চলে যায়। তবে এই স্কুল মালিকের দাবি মিলন হোসাইন একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিল।

মিলন হোসাইন উত্তরা মডেলটাউন ইউনির্ভাসিটি থেকে অনার্স,মাষ্টার্স করেছে বলে যানা গেছে।