মেইন ম্যেনু

আসছে ভ্যালেন্টাইনস ডে ॥ দুদিনে ১১ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

হাসান মাহামুদ : পহেলা ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) ও বিশ্ব ভালবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) অধিকাংশ মানুষের কাছে থাকে ফুল। নগরজীবনে এ দু’টি দিবসে ফুলের গুরুত্ব থাকে একটু বেশিই।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্য মতে, এবার সারা দেশে পাইকারি পর্যায়ে ১১ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ কোটি। তবে খুচরা পর্যায়ে এই সংখ্যা অনেক বেশি হবে।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রিক ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার শাহবাগে মোট হিসাব না করা হলেও বিচ্ছিন্নভাবে বিক্রেতা বলছেন, এই দুদিনে শুধুমাত্র শাহবাগে খুচরা ও পাইকারি বিক্রয় চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সারা দেশের খুচরা বিক্রেতারা রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট ও আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ফুলের পাইকারি মার্কেট থেকে ফুল কিনে থাকেন। বিশেষ করে শাহবাগের পাইকারি বাজারের ফুল রাজধানীসহ সারাদেশে যায়।

শাহবাগের পাইকারি ফুল বিক্রেতা আবদুল হান্নান জানান, শাহবাগে ফুলের বিশাল পাইকারি বাজারে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন দেশের প্রায় ১৯টি জেলা থেকে ফুল আসে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন এখানে বিকিকিনি হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফুল। শুক্রবার বিক্রি অন্যদিনের চেয়ে বেশি থাকে। আর বিশেষ কোনো দিবস থাকলে ফুল বিক্রি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এই পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছর ধরে ফুলের ব্যবসায় ঈদের উৎসব ধরা হয়, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। এই দুদিনে ফুল বিক্রি অন্যতম উচ্চতায় পৌঁছায়। এ সময়কে কেন্দ্র করে ফুল ব্যবসায়ীদেরও থাকে বিশেষ প্রস্তুতি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহবাগ ফুলের মার্কেটে রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, কেলোনজরা, চন্দ্রমল্লিকা, লাল ও সাদা গোলাপ, ভুট্টা ফুল, বেলি, কামিনী, সূর্যমুখী, ডায়মন্ড, গরম ফেনিয়া, রতপুসুটি, টুনটুনি, জিপসি, স্টারকলি, ডালিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল বিক্রি হয়। প্রতিদিন যশোর, সাভার, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইলসহ প্রায় ১৯ জেলা থেকে ফুল আসে এই বাজারে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এখানে সাধারণত চুক্তি ভিত্তিতে ফুল বিক্রি হয়। দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলা থেকে ফুল বিক্রেতারা ফুল পাঠায় ঢাকায়। এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ী গাড়ি ভাড়া দিয়ে ফুল নিয়ে আসে ঢাকায়। এরপর খুচরা ও দ্বিতীয় স্তরের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে দেয় এসব ফুল।

কিছু ফুল আবার পাইকারিভাবে দেশের অন্যান্য জেলার ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়। অর্ধেকের মতো ফুল থেকে যায় শাহবাগে। এখানে ১০০ টাকার ফুল বিক্রি করলে দোকানীদের কমিশন ১০ টাকা। তবে অবিক্রিত ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুলের জন্য চাষিকে কোনো টাকা দিতে হয় না। এক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া বাবদ কিছুটা লোকসান গুনতে হয় প্রথম পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

শাহবাগে রয়েছে ১২০টি ফুলের দোকান। খুচরা রয়েছে আরো ১০০টি ফুলের দোকান। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভালবাসা দিবসে রাজধানী ঢাকায় পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। এর সিংহ ভাগই হবে শাহবাগে।

শুক্রবার সকাল ৭টায় শাহবাগের ফুলের বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের সকাল ৭টার মধ্যেই পাইকারি বিক্রি প্রায় শেষ, খুচরা ব্যবসায়ীরা ফুল গোছাতে ও দোকান সাজানোতে ব্যস্ত। আর পিক-আপ থেকে নামানোর সময় রাস্তায় পড়ে যাওয়া ফুল কুড়িয়ে নিতে ব্যস্ত বাচ্চা ছেলেমেয়েরা।

শাহবাগের গ্রামীণ ফ্লাওয়ার শপের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম জানান, শাহবাগে সারা বছরই ফুলের ব্যবসা থাকে। কারণ অনেকের কাছে ফুলের একমাত্র প্রাপ্তিস্থান হিসেবে শাহবাগই পরিচিত। এছাড়া শহরের কেন্দ্রবিন্দু ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশে হওয়ায় শাহবাগে সংস্কৃতিমনাদের আনাগোণা বেশি থাকে, যারা ফুলের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা।

তিনি বলেন, তবে সব বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় ফেব্রুয়ারি এলে। ১ তারিখ থেকে বইমেলা শুরু হয়। বইমেলায় আগতদের অনেকেই ফুল কেনেন। আর পহেলা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রচুর পরিমাণ ফুল বিক্রি হয় ঢাকায়।

এছাড়া ২১শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও ফুল বিক্রির অন্যতম একটি উপলক্ষ বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে ১০ হাজার ফুলের পাইকারি দোকান রয়েছে। খুচরা দোকান রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এবার সারা দেশে পাইকারি পর্যায়ে ১১ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগের বছর ছিল ১০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে ছিল ছয় থেকে সাত কোটি টাকা। তবে খুচরা পর্যায়ে এ হার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির মহাসচিব বাবুল প্রসাদ জানান, এবারের বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সারা দেশে ১১ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর এই দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক। গত বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খুব একটা কম হয়নি। সে হিসেবে এবার বিক্রি আরো বেশি হবে বলেই মনে হচ্ছে।