মেইন ম্যেনু

আসছে হিমেল হাওয়া, ঝেঁকে বসছে শীত

হিমালয় থেকে বাংলাদেশে হিমেল হাওয়া আসতে শুরু করেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা কমে শীত পড়তে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হিমালয় থেকে কাছের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন জানান, ‘এই শীত কয়েকদিন থাকবে। তারপর পরিবর্তন হবে। রাজধানী ঢাকায় গত দুদিনে তাপমাত্রা কমেছে। ফলে শীত অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত চার্টে বিকেলে দেখা যায়, ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে টাঙ্গাইলে। সেখানে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।

আফতাব উদ্দিন জানান, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি থেকে তীব্র ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি মৃদু অথবা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, চলতি জানুয়ারি মাসে রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ এবং যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে মৃদু, মাঝারি অথবা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শীত পড়বে।

একই সঙ্গে নদী অববাহিকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা, মাঝারি ও ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে আমাদের পাবনার প্রতিনিধি এ বি এম ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, পাবনা ও আশপাশের জেলায় আজ থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া কার্যালয়ের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর আবদুল হান্নান জানান, শনিবার সকালে এ এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশের জেলা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আজ তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে শীত এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

শীতে হতদরিদ্র মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। একই কারণে দূরপাল্লায় যানবাহন চলাচল করতে বেশি সময় লাগছে। যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলাচল করছে না।

পাবনা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি এসব রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এই শীতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শ্রমিক শ্রেণির মানুষদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে।