মেইন ম্যেনু

‘আসল বিএনপি’র দখল ঠেকাতে পাহারা বসিয়েছে ছাত্রদল

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কায় কার্যালয়ের সামনে পাহারা বসিয়েছে দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিএনপির আশঙ্কা, নিজেকে বিএনপির পুনর্গঠনের মুখপাত্র দাবিদার কামরুল হাসান নাসিম তার লোকজন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল করবেন।

আর তা ঠেকাতেই শনিবার সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পাহারা বসিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলামেইলকে বলেন, বিএনপির দপ্তর দখল হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা থেকে আমরা সকাল থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ অবস্থান চলবে।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন দলটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীনসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

এরআগে, সকালে সেখানে দলটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ নেতারা থাকলেও সভা শেষে তারা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত’ বসান কামরুল হাসান নাসিম। সেখান থেকে বিএনপি পুনর্গঠনের জন্য দলটির গঠনতন্ত্র (সংবিধান) অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত’ বসানোর ঘোষণা দেয়া হয়। তবে কবে এ আদালত বসানো হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ তখন জানানো হয়নি।

জানতে চাইলে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গত এক বছর ধরে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে বিএনপিতে যেকোনো মুহূর্তে দলীয় বিপ্লব ঘটানো হবে। দিন-ক্ষণ ঠিক করে বিপ্লব হয় না। তবে বিপ্লব হবে দিনের আলোতে, অন্ধকারে নয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দখল শব্দটি বলতে চাই না। আসলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত’ বসানো হবে। সেটি যেকোনো সময় হতে পারে।