মেইন ম্যেনু

আসুন জেনে নেই অদ্ভুত সব মাংসাশী গাছ-গাছালি সম্পর্কে

মাংসাশী উদ্ভিদ প্রাণীজগতের অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক সদস্য। তারা আক্ষরিক অর্থে জীবিত প্রাণীসত্ত্বাকে ভক্ষণ করেনা। এরা শিকারকে ফাঁদে আটকে ফেলে পাচক রস নিঃসৃত করে এবং শিকারকে গলিয়ে ফেলে এর পুষ্টি গ্রহণ করে। শুধুমাত্র এন্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বে আর সব জায়গাতেই এদের পাওয়া যায়। বিশ্বে ৬০০ প্রজাতির মাংসাশী উদ্ভিদ আছে। তারা শিকার ধরার জন্য বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ কাজে লাগায়। এরা পতঙ্গ এবং ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণীকে ফাঁদে আটকে ফেলে। চোরা গর্ত বা জাল, হঠাৎ কামড়ে দেয়া ও ফ্লাইপেপার ফাঁদ সৃষ্টি করতে পারে এরা। এমনই কিছু মাংসাশী উদ্ভিদের কথা জেনে নিব আজ যা জানলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে।

১। ব্রক্কিনিয়া রোডাক্টা (Brocchinia roducta)

এটি দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া যায়। এরা যেকোন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে। এই উদ্ভিদটিকে দেখতে মনে হবে বড় জড়ানো পাতার মাঝখানে জল সংরক্ষণের কাপ। এই প্রকার উদ্ভিদ তার পাতার মাধ্যমে শিকার ধরে থাকে। এর পাতাগুলো ঢিলেঢালা, মোম দিয়ে আবৃত যা অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করতে পারে। এর কাপের মধ্যে যে পানি থাকে তা অতিবেগুনি রশ্মি ও মিষ্টি সুগন্ধ তৈরি করে যা পিঁপড়া ও পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। একবার যদি কোন পতঙ্গ এর মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলে পানির মধ্যে পড়ে যায় ও আস্তে আস্তে ডুবে যায়। উদ্ভিদটি তখন এনজাইম ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে একে হজম করতে শুরু করে।

২। অ্যাল্ড্রোভান্ডা ভেসিকোলুসা (Aldrovanda vesiculosa)

এটি জলচক্র নামে জনপ্রিয়। অ্যাল্ড্রোভান্ডা প্রজাতির একমাত্র জীবিত সদস্য হচ্ছে অ্যাল্ড্রোভান্ডা ভেসিকোলুসা। এটি সর্বত্র বিস্তৃত মাংসাশী উদ্ভিদ যা ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে পাওয়া যায়। এরা মূলত জলজ অমেরুদন্ডী প্রাণী ভক্ষন করে থাকে। এরা শুকতারার মত জাল দিয়ে শিকার ধরে থাকে। এদের ফাঁদটিতে কানের লতির মত দুটি অংশ ভাঁজ করা থাকে পানির নীচে। এর ভেতরের অংশে সংবেদনশীল চুলের প্রলেপ থাকে। এরা শিকার কাছে আসা মাত্রই ফাঁদ খুলে দেয় এবং ২০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে বন্ধ করে ফেলে ও হজম করা শুরু করে।

৩।হেলিয়াম্ফোরা (Heliamphora)

এটি চিরসবুজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ যা যা রাইজোম থেকে সহজ ও শাখা কান্ডের বিকাশ ঘটে। হেলিয়াম্ফোরা “সূর্য কলসী” নামে পরিচিত। এই উদ্ভিদের মূলতন্ত্র খুবই উন্নত। এই উদ্ভিদের নলাকার পাতাই এদের ফাঁদ অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। ফানেল আকৃতির কলসী পানিতে পূর্ণ থাকে এবং এটি ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। যখন কোন পোকা এই তরলের মধ্যে পড়ে যায় তখন এটি ডুবে যায় এবং তরলে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে হজম হতে শুরু করে।

৪। সেফালোটাস (Cephalotus)

এই উদ্ভিদটি দক্ষিন-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া যায় এবং এর শুধুমাত্র Cephalotusfollicularis নামের একটি প্রজাতিই আছে। এর কলস আকৃতির ফাঁদ পাতা আছে বলে এটি “অস্ট্রেলিয়ান ঘটপত্রী” নামে পরিচিত। এরা পিটফল ফাঁদের মাধ্যমে শিকার ধরে। পুরো প্রক্রিয়াটি হয় ৩টি আলাদা অঞ্চলে যেমন- আকর্ষণ অঞ্চল, স্লিপ বা পিছলানো অঞ্চল এবং পরিপাক অঞ্চল। ফাঁদের মুখে একটি সংকীর্ণ কলার বা বন্ধনী থাকে তাই যদি কোন শিকার এর মধ্যে পড়ে যায় তাহলে সে আর বের হয়ে আসতে পারেনা।

৫। ড্রসেরা (Drosera)

ড্রসেরা প্রজাতির উদ্ভিদগুলোকে দেখলে মনে হবে যেন শিশির দিয়ে আবৃত হয়ে আছে। তাই এদেরকে “সূর্যশিশির” ও বলা হয়। সন্দেহহীন পোকারা এই শিশির দেখে আকৃষ্ট হয়, যা আসলে আঠালো পাচক রস। এই পাচক রসই পোকাকে ফাঁদে ফেলে এমনকি হজম করে ফেলে। এদের পুষ্টির ঘাটতি আছে এমন স্থানে যেমন- জলাভূমি ও বালুকাময় সৈকতে দেখা যায়।

আরো কিছু মাংসাশী উদ্ভিদ হল : ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ, সারাসিনিয়া, পিঙ্গুইকুলা, ইউট্রিকুলারিয়া, বাইব্লিস, নেপেন্থেস, ডারলিংটনিয়া কেলিফরনিকা, ডাইওনিয়া ইত্যাদি।