মেইন ম্যেনু

আস্তিক বা নাস্তিকতা মস্তিষ্কের ফসল

একটি অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি আছেন কি নেই তা নিয়ে বিজ্ঞানী এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে সবসময়ই একটা তর্ক চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের মূল উৎস হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক।

গবেষকদের মতে, মানুষের মস্তিষ্কে দুটি অংশে রয়েছে। একটি অংশ বিশ্লেষণাত্মক বা জটিল চিন্তা করে অপর অংশটি সহানুভূতিশীল নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত। যখন বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানকে নির্বাচনের প্রশ্ন আসে তখন মস্তিষ্ক এইভাবে কাজ করে।

অপার্থিব শক্তি বা সার্বজনীন আত্মা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে মানুষ তাদের মস্তিষ্কের বিশ্লেষণমূলক বা জটিল চিন্তার অংশগুলোকে অবদমিত করে রাখে এবং সহানুভূতিশীল অংশ জড়িত হয়। অন্যদিকে, যখন মানুষ শারীরিক এবং পার্থিব জগৎ সম্পর্কে বিশ্লেষণমূলক চিন্তা করে তখন মানুষ এর বিপরীত আচরণটাই করে। যুক্তরাষ্ট্রের কেইস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যবসন কলেজের গবেষকরা এসব কথা বলেছেন।

তারা বলছেন, আমাদের দেহ এবং মনে যাই ঘটে সবকিছুতেই আমাদের মস্তিষ্কের ভূমিকা রয়েছে। কেইস ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ারের অধ্যাপক এবং গবেষণার সহ-লেখক বলেন, মস্তিষ্ক ছাড়া আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। তাই বিশ্বাসীরা মস্তিষ্কের বিশ্লেষণধর্মী এবং জটিল অংশটিকে দমন করে রাখে যখন তারা বিশ্বাস এবং প্রার্থনা করে। তার মানে এই নয় যে, তারা একরোখা বা বিশ্লেষণধর্মী নয়।

আটটি ধারাবাহিক গবেষণার পর গবেষকরা দেখেছেন, যারা সহানুভূতিশীল তারা বেশি ধার্মিক। তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল-‘মানুষের মস্তিষ্কে দুইটি অংশ চাপা উত্তেজনা তৈরি করে’।

কেইস ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সহযোগী অধ্যাপক টনি জ্যাক বলেন, এই দুটি অংশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা প্রকৃতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে এক পাশে ফেলে নিজেকে সামাজিক দিকে মনযোগী করে তুলে।

বিকল্প উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সেলেব্রেটি কোচ সন্তোষ বাবু বলেন, আমরা সবকিছু বুঝতে পারি না কিন্তু মানব মস্তিষ্ক তা বুঝতে সক্ষম। তাই অনেক সময় কোনো কিছুকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে একটি ‘যৌক্তিক সান্ত্বনা’ কাজ করে থাকে যা অনেক সময় আমাদের বুঝা এবং সামর্থ্যের বাইরে।যখন আমরা কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি তখন ইন্দ্রিয়লব্ধ কোনো কিছু আমাদের মস্তিষ্কের বিশ্লেষণমূলক অংশটিকে থামিয়ে দেয়।