মেইন ম্যেনু

আড়াই লক্ষাধিক জনগনের জন্য একজন ডাক্তার, চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত সাধারন মানুষ

দ্বীপ জেলা ভোলার দক্ষিণ আইচায় আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসকের সংঙ্কটে সেবার মান ভেঙ্গে পরেছে। আড়াই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবায় রয়েছে মাত্র এক জন ডাক্তার। ফলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অবকাঠামো অনুযায়ী আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ ৪ জন চিকিৎসক থাকার পরিপত্র থাকলেও একজনেই খন্ডকালীন চালিয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতালে নেই সিনিয়র স্টাফ নার্স,ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান,অফিস সহকারী। স্বারক নং স্বাপকম/প্রবা-১/রাজস্ব-৫/২০০৪/১০২ কাগজ পত্রে ৪ জন মেডিকেল অফিসার, ৩ জন স্টাফ নার্স, কাগজে কলমে আছে। কিন্তু সিংহভাগ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কমচারীরা বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। ২ জন দারোয়ান কাম নাইটগার্ড থাকলেও কেউ দায়িত্ব পালন না করার কারনে রাতে বিভিন্ন কক্ষে বসে বিভিন্ন ধরনের আসর । জুয়া, মদ, থেকে শুরু করে চলে এসব অপকর্ম। বিষয়টি সবাই জানলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন।

এসব আসরের সাথে হাসপাতালের কমচারীরা জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। কার্যক্রম না থাকায় হাসপতালে স্থাপিত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি গুলো দিন দিন অকেজো হয়ে পড়ছে। । দূর্গম চর এলাকার মানুষের চিকিৎসাস্থল চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার ২০ শর্য্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির এই করুন দশা। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে স্যাটেলাইট ক্লিনিক থাকলেও তেমন কোন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা সাধারণ জনগন। ১৯৯৮ সালে ততকালীন বিএনপি সরকার আমলে সৌদি যুবরাজের হাত ধরে ১৯৯৮ আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আলট্রাসনোগ্রাম,এক্সরে, ইসিজি, ডেন্টাল ইউনিট ,এ্যাম্বুলেন্স, অধ্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার,সহ উন্নত চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে নিমার্ন স্থাপন করে উক্ত সরকারের অনুদানে ৪জন ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে চলছে হাসপাতালটির করুন দশা।

ইতিপুর্বে ২ জন ডাক্তার সরকারী চাকুরী নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার হুমাযুন কবির আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকলে ও তিনি আবার প্রতিদিন অফিস করেন না । সপ্তাহে ২/৩ দিন লালমোহন থেকে এসে দুপুর ১টায় চলে যান। আরেক জন ডাক্তার উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য বরিশাল ডেপুটেশনে আছেন। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত এখানকার সাধারণ মানুষ।

অপরদিকে বরাদ্ধ থেকে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ঔষুধ সরবরাহ ,৬/৭ মাস পর পর বেতন প্রদান, লোকবল সংকটের কারনে হাসপাতালের ইনডোর বিভাগ অঘোষিত ভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জরুরী চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। যাদের আর্থিক অস্বচ্ছলতা রয়েছে তারা বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে।