মেইন ম্যেনু

আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে এক ডজন দল, সময় চেয়েছে বিএনপি

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ২০১৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত ৪০টির মধ্যে অন্তত এক ডজন দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দিলেও বিএনপিসহ ৪টি দল ইসির কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্তত এক ডজন দল তাদের ২০১৫ সালের (১ জানুয়ারি-৩১ ডিসেম্বর) আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে কমিশনে।

বিএনপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ),বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ইসির কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছে।

বিএনপি ২০১৫ সালে আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ১৫ দিন (১৫ আগস্ট পর্যন্ত) সময় চেয়ে ইসিতে আবেদন করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটির সহদপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বরাবর এ আবেদন করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল, তাই এর হিসাবও অনেক বড়। আমরা হিসাবনিকাশের সব কাজ শেষ করেছি। এখন এই হিসাবে কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি যেন না থাকে সেজন্য খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব যেন যথাযথ হয় সে জন্যই আমরা আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন করেছি।’

বাসদ ও বিজেপি আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসির কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টিও (এনপিপি) সময় চেয়ে আবেদন করেছে।

চলতি বছরের ১৫ জুন ইসির নিবন্ধনে থাকা ৪০টি রাজনৈতিক দলকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার জন্য দলগুলোর মহাসচিব বরাবর চিঠি দেয় কমিশন। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় দলটিকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি দেয়া হয়নি।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় ও ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল যদি পরপর তিন বছর কমিশনে আয়-ব্যয়ের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় তবে সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।