মেইন ম্যেনু

আ.লীগের ‘নতুন ঠিকানা’ ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে এক আবেগের ঠিকানা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরেই দেশের অন্যতম বৃহত্তম দলটি পরিচালিত হচ্ছে এখান থেকেই। তবে নতুন ভবন হবে বলে এই ঠিকানা পাল্টাতে হয়েছে দলটিতে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় করা হয়। প্রায় ৩৫ বছর পর সেই ভবনটি ভেঙে ১০ তলার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে নতুন এ ভবন নির্মাণ শেষ করতে চায় দলটি।

গত ১৭ জুলাই থেকে দলের কার্যালয়ের পুরনো ভবন ভাঙা শুরু হলে অনেকটাই ঠিকানাহীন হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলটি। কোথায় যাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়?- বহুদিন ধরে জিজ্ঞাসা ছিল নেতাকর্মীদের। নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়েরই একটি ভবনকে বেছে নিয়েছেন তারা। আগামী তিন বছরের জন্য ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ভবনটি ভাড়া করতে আলোচনাও অনেকটা এগিয়ে গেছে।

মামুনুর রশিদ, রওশন আলা বেগম ও সালেহা মহিউদ্দীন এই ভবনটির মালিক। তাদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ চুক্তি করতে চান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মালিকদের পক্ষ থেকে চুক্তি করবেন মামুনুর রশিদ।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী তিন বছর ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর ভাড়ায় ব্যবহার করা হবে। জানতে চাইলে শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘দলীয় সভাপতির নির্দেশে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা ভবন ভাড়া বিষয়টি দেখছেন। চুক্তি হলেই আমরা বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো।’

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, এরই মধ্যে চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে। তবে মাসিক ভাড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও সেখানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা, যুবলীগ, কৃষক লীগ, তাতীঁ লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগও তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসাবে ভবনটি ব্যবহার করবে।

অনানুষ্ঠিকভাবে এরই মধ্যে ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দ্বিতীয় তলায় মহানগর দক্ষিণ, তৃতীয় তলায় ছাত্রলীগ এবং পঞ্চম তলায় শ্রমিক লীগ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাঁচতলা ভবনটির নিচতলা একটি বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া আছে।

জানতে চাইলে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খান বলেন, ‘আমরা এখন ধানম-ি দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করছি। ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ যদি আমাদের কোন কক্ষ দেয়া হয় তখন আমরা তা ব্যবহার করবো।’

যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল বলেন, ‘১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আমাদের জন্য একটি কক্ষ রাখা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসাবে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের তৃতীয় তলাকে ব্যবহার করবো।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ বলেন, ‘আমরা দলীয় প্রধানের নির্দেশে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় করছি। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে আমরা এখনও কোন নির্দেশনা পাইনি।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মহানগরের একজন নেতা বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ের বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যেখানেই কার্যালয় নিতে বলবেন আমরা সেখানেই নেবো। হয়ত এটা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো এলাকায় হবে।

কেন্দ্রীয় কার্যালয় ব্যবহার না করার যুক্তি জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, ‘১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আমাদের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার হলে নেতাকর্মীদের আসার একটা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা উত্তরের কার্যালয় রাখতে চাই।’খবর ঢাকাটাইমসের।