মেইন ম্যেনু

আ.লীগ নেতাকে অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চরফ্যাশন বাজারের ভূষাপণ্যের আড়ৎদার মো. নজরুল ইসলামকে (৪২) অপহরণ করা হয়েছে। তার মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে।

অপহৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে চরফ্যাশন থানায় পরিকল্পিত অপহরণের অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অপহৃত নেতার পরিবার জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসা থেকে বাজারে যান নজরুল ইসলাম। রাতে বাসায় না ফিরলে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ২৫ জানুয়ারি নজরুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস চরফ্যাশন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অপহরণের বিষয় নিশ্চিত হলে পরদিন ২৬ জানুয়ারি পরিকল্পিত অপহরণের অপরাধে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২৪ জানুয়ারি বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে দু’জন সঙ্গী নিয়ে ভোলায় যান নজরুল। ভোলা যাওয়ার পথে কুঞ্জেরহাটে থেকে নেমে সঙ্গীদের নিয়ে চা দোকানে চাও পান করেন তিনি। লুঙ্গি পরা সাদামাটা চলনের বহিরাগত দু’সঙ্গীকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম অপহরণের ঘটনা আবর্তিত হচ্ছে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, অপহরণের পরদিন ২৫ জানুয়ারি বিকেলে নজরুল ইসলামের অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের আইস ফ্যাক্টরি রোডে। প্রযুক্তির সাহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ নজরুলকে উদ্ধারের জন্য সন্দেহজনক কয়েকটি স্থানে অভিযানও চালায়। কিন্ত অভিযানের অন্তত ৩০ মিনিট আগে একটি হোটেল থেকে নজরুলকে নিয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, পরে চট্টগ্রাম থেকে নজরুলকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পর নজরুল ইসলাম নিজের মোবাইল ফোন থেকে কয়েক দফা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে সংক্ষিপ্ত আকারে কথা বলার পর ফোনটি বন্ধ করে রাখা হয়। প্রতিবার কথা বলার সময় স্বজনদের ১০ লাখ টাকা যোগাড় করে রাখার তাগিদ দেন তিনি। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত নজরুল ইসলাম স্বজনদের জানিয়েছেন, ‘ওরা ১০ লাখ টাকা চায়। টাকা যোগাড় করে দাও। টাকা না দিলে ওরা আমাকে ছাড়বে না।’

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক জানান, অপহৃত নজরুল ইসলামকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তাকে জীবিত উদ্ধার করাই পুলিশের লক্ষ্য । এ লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারা।