মেইন ম্যেনু

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে জাপান

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। স্কোরলাইন জাপান ১-১ ইংল্যান্ড। যোগ হলো অতিরিক্ত ৪ মিনিটের খেলা। আর এই অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই কপাল পুড়ল ইংল্যান্ডের। প্রায় মাঝ মাঠের কাছাকাছি বল পেয়েছিলেন জাপানের মিডফিল্ডার রুমি ওটসুগি। একটু সামনে এগিয়ে এসে ইংল্যান্ডের বক্সের ভেতর লম্বা করে বল বাড়ালেন তিনি। বলটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের লরা বাসেট। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার।

বলটি বাসেটের বুটের মাথায় লেগে নিজেদের ক্রসবার ছুঁয়ে ঢুকে গেল জালে। ডাগ-আউটে ইংল্যান্ডের কোচ স্যাম্পসনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। দুই হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়লেন তিনি। এমনটা হওয়ারই কথা। ওই আত্মঘাতী গোলেই যে নারী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো তার দলকে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জাপান।

সেই ১৯৬৬ সালে একবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ডের পুরুষ দল। এরপর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য বলতে একবার চতুর্থ হওয়া। এবার প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ডের মেয়েদের সামনে ছিল ফাইনালের হাতছানি। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচানোর। কিন্তু তা আর হলো কোথায়? তারা কেঁদে বিদায় নিল সেমিফাইনাল থেকেই।

বুধবার কানাডার এডমনটনের কমনওয়েলথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩২ মিনিটে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। জাপানের মিডফিল্ডার সাওরি আরিয়োসিকে বক্সের বাইরে ফেলে দেন ইংল্যান্ডের ক্লারি রাফারটি। কিন্তু এতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে জাপানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন আয়া মিয়ামা।

অবশ্য ৮ মিনিট পরই সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। এবার ইংল্যান্ড গোল পায় ওই পেনাল্টি থেকেই। নিজেদের বক্সের ভেতর ইংল্যান্ডের স্টেফ হগটনকে ফাউল করেন জাপানের এক খেলোয়াড়। পেনাল্টি পেয়ে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ফারা উইলিয়ামস। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধের খেলা ১-১ সমতাতেই এগিয়ে চলছিল। গোল পাচ্ছিল না কোনো দলই। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে বাসেটের ওই আত্মঘাতী গোলেই কপাল পোড়ে ইংল্যান্ডের। প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দলটির ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আর ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতে জাপান।

আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে দুবারের চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে গতবারের শিরোপাজয়ী জাপান।