মেইন ম্যেনু

ইংল্যান্ডের রানীর বিরুদ্ধে হীরা চুরির মামলা!

কোহিনূর হীরার নাম কে না শুনেছে! একসময় এটা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড। এর মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো। সম্প্রতি এই কোহিনূর হীরাকে ঘিরে ঘটেছে চমকপ্রদ এক ঘটনা। হীরাটি একসময় ছিল ভারতীয় সম্পত্তি কিন্তু এটা এখন যুক্তরাজ্যের রানীর ভাণ্ডারে। কিন্তু তাতে কি? ভারতের বিশিষ্ট জনগণ ঠিকই মামলা করে বসেছে স্বয়ং ইংল্যান্ডের রানীর বিরুদ্ধে!

ভারতের বলিউড তারকা এবং ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে লন্ডন হাইকোর্টের সাথে উকিলদের নিয়ে আইনানুগ ব্যাবস্থা শুরু করেছে। তারা এই বিশ্বখ্যাত কোহিনূর হীরা ফেরত চায়।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের রাজা সপ্তম জর্জের রাজ্য অভিষেকের দিন রানী তাঁর মুকুটে পরেছিল এই হীরা। তারপরে ১৯৫৩ সালে রানী এলিজাবেথও তাঁর মুকটে পরে এই হীরা।

ভারতের যে দল এই কোহিনূর হীরাকে নামকরন করেছে ‘মাউনটেন অফ লাইট’ বলে তারা সম্প্রতি দাবি করেছে যে, ১০৫ ক্যারেটের এই হিরকখণ্ডটি মূলত ভারতের সম্পদ এবং এটা চুরি করা হয়েছে। তারা যুক্তরাজ্যের সরকারকে এটা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন।

ডেভিড ডি সুজা নামের এক ভারতীয় বলেছেন, হীরকখণ্ডটি আরও অনেক মূল্যবান প্রাচীন সম্পদের মত ভারতের থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতের অনেক সম্পদ চুরি করেছে এবং দেশটির চেতনাকে ধ্বংস করেছে।

ভারতের পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ ক্ষমতার অধীনে নেয়ার পর সে সময়কার শাসক দুলেপ সিং সেটি দেয় রানীকে। বলিউড তারকা ভুমিকা সিং বলেছেন, কোহিনূর শুধুমাত্র ১০৫ ক্যারেটের একখণ্ড হীরাই নয়, বরং এটি আমাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটা অংশ। এটা অবশ্যই আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

কোহিনূর হীরা নিয়ে উদ্ভট সব কিংবদন্তি চালু আছে। যেমন বলা হয় যে, এই হীরা শুধুমাত্র ঈশ্বর অথবা নারী পরতে পারবে। যেই এটা পরবে সে হবে অত্যন্ত ক্ষমতাধর। কিন্তু যদি কোন পুরুষ এটা পরে তাহলে তার হবে দুঃখজনক সমাপ্তি।

যদিও উকিলেরা এই মামলা নিয়ে আশাবাদী যে তারা হয়তো হীরা ফিরে পাবে কিন্তু ইংল্যান্ডের সরকার এখন পর্যন্ত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।