মেইন ম্যেনু

ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে এত টাকা? সারা রাত টাকা গুনেও শেষ করতে পারেনি মেশিন!

নিতান্তই সাদামাটা চেহারার লোক পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার প্রণব অধিকারী। পেশায় পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার, বিল্ডিং বিভাগের প্রধান। লোকে বলে ওনার মতো মানুষই হয় না। কিন্তু তার ভেতরের গল্প ছোটবেলার সেই গুপ্তধন উদ্ধারের গল্পকেও হার মানাবে।

বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় তার তুড়িতেই অনুমোদন পায় শহরের বাড়ি তৈরি। কারোর বাড়ির পৌরসভা সংক্রান্ত অনুমতি পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে নেন মোটা টাকার ঘুষ। আর এভাবেই তিনি গড়েছেন টাকার পাহাড়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষমেষ পুলিশের ফাঁদে পা দিয়েই সব হারাতে হয় তাকে।

জানা গেছে, পৌরসভার অনুমতি পাইয়ে দেবেন বলে এক শিল্পপতির কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ চান প্রণব অধিকারী। ওই শিল্পপতি বিষয়টি দুর্নীতি দমনে জানান। সেই অনুযায়ী পুলিশ ফাঁদ পাতে। পরিকল্পনা মতে ওই শিল্পপতি প্রণবকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দিতে যান। আর তখনই হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।

এরপরই প্রণব অধিকারীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তদন্তে নেমে যা দেখা গেল তাতে তদন্তকারী কর্মকর্তারাই রীতিমতো ভ্যাবাচাকা খেয়েছেন। দুপুর থেকে শুরু হয় প্রণবের গড়া পাহাড় থেকে টাকা উদ্ধারের কাজ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয় তবু শেষ হয় না প্রণবের হাওড়ার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের কাজ।

বাড়ির মেঝে ও কার্পেটের নিচে, রান্নাঘর, শোয়ার ঘরে, সোফার গদিতে, শৌচাগারে কমডের পেছনে কোথাও বাকি নেই। শুধু টাকা নয়, বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকা গোনার মেশিনও। যা সচরাচর থাকে ব্যাংকে। প্রণবের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সেই টাকা নেয়ার জন্য প্রথমে একটি বড় ট্রাক আসে, কিন্তু তাতে সব টাকা নিতে না পারায় আবার মাঝারি মাপের দু’টি ট্রাক আসে। তাতেও শেষ হয়নি টাকা। এরপর থেকে একের পর এক ট্রাক আসছে, আর বাড়ির আনাচে কানাচে থেকেও টাকা বের হচ্ছে।

এতো টাকা কোথা থেকে পেলেন প্রণব অধিকারী? শুধুই কী ঘুষের টাকা নাকি অন্য কোনো গল্প রয়েছে এর পেছনে? অবশ্য তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে টাকা গুণতে গুণতে একেবারেই কাহিল তদন্ত কর্মকর্তারা। রাত শেষ হয়ে গেলেও টাকা গোনার কাজ শেষ করতে পারেনি কর্মকর্তারা। তাও আবার সেই টাকা গোনা হয় মেশিনে।