মেইন ম্যেনু

ইতালির নাগরিক হত্যায় তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু

ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দারা। তবে মামলার তদন্তে আপাতত বিদেশি কোনো তদন্ত সংস্থার সাহায্য নেয়া হচ্ছে না।

বুধবার ডিএমপির সদর দপ্তরে এ নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেছেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে সিজারের ব্যক্তিগত শত্রুতা, সিজার নিজে কোনো বিতর্কিত লেখালেখির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, দ্বিতীয়ত তার কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত কোনো ঝামেলা আছে কি না, তিনি যে এনজিওতে কাজ করতেন সেই এনজিও’র কোনো বিতর্কিত কার্যক্রম আছে কি না, সহকর্মী কারো সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ ছিল কি না এবং তৃতীয়ত আর্ন্তজাতিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এই তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও সব ধরনের আশঙ্কা নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। গুলশান এলাকায় স্থাপিত সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, এই মামলার তদন্তে বিদেশি কোনো সাহায্য নেয়া হচ্ছে না। আমাদেরই যথেষ্ট সামর্থ আছে এ ধরনের মামলা তদন্তে। অতীতেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ডিবি পুলিশ সফল হয়েছে। এছাড়া মামলা তদন্তে ইতালি দূতাবাস কিংবা অন্য কোনো দেশ এখন পর্যন্ত সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়নি।

নিহত সিজারের লাশ এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। তার পরিবার কিংবা দূতাবাসের লোকজন লাশ চাইলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার সকালে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এসময় তারা আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেন।

এদিকে বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা পরবর্তী রাজধানীর সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে জরুরি বৈঠক করেছেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

বৈঠকে সিজার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও করণীয় এবং রাজধানীর সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলাচনা হয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য পুলিশের সব ইউনিটকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তার সহকর্মী থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার রাতেই মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইতালির নাগরিক হত্যায় তদন্ত কমিটি

গুলশানে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যার ঘটনায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাহবুব আলমকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের চারটি বিভাগের এডিসি (অতিরিক্ত উপ-কমিশনার) এবং বিভিন্ন বিভাগের এসি (সহকারী কমিশনার) ও পুলিশ ইন্সপেক্টর।

মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, এ হত্যার পর থেকে কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।