মেইন ম্যেনু

ইতিবাচক ‘আশা’ নিয়ে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের চূড়ান্ত ঘোষণা এলো। দীর্ঘ সাত বছর পর দ্বিপক্ষীয় সফরে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ১৮ বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি সমাধানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক তথ্য দিতে পারেনি প্রতিবেশী দেশটি। তবে তিস্তা চুক্তি হোক বা না হোক প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মতানৈক্য না হওয়ায় বহু কাঙ্খিত এ চুক্তির বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরপরও আশাবাদী ঢাকা ও দিল্লি। শুধু ইতিবাচক কিছুর ‘আশা’ নিয়েই ভারতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

১৪ মার্চ এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৭-১০ এপ্রিল নয়াদিল্লি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে কাজ করছেন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বরাবরের মতো অমীমাংসিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়েও সমাধান চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি অন্যতম মেগা প্রকল্প গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণেও সহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা চায় ঢাকা।

দিল্লিও এগিয়ে রেখেছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা (রূপরেখা চুক্তি) সইয়ের ব্যাপারে। এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুপক্ষ। সোমবার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিস্তা নিয়ে বেশ কৌশলী ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই তিস্তা বিষয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হবে কি না- জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘সব কিছুতেই কাজ এগিয়ে চলছে। আমাদের দেখতে হবে কোনটি সম্ভব আর কোনটি সম্ভব নয়।’ সামরিক চুক্তির বিষয়টিও স্পষ্টত ‘না’ করলেন তিনি।

তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কোনো চুক্তি হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, যাতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সফর বিনিময়, যৌথ মহড়া, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জঙ্গি দমনে সহায়তার বিষয় থাকবে। তবে এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদকাল কতদিন হবে সে বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, এ সফরে যুদ্ধ অস্ত্র কেনার জন্য বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলারের একটি ঋণ প্যাকেজ দিচ্ছে ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) দেয়া সংক্রান্ত আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এদিকে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়েও আপত্তি তুলেছেন মমতা। তাই এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমীক্ষা চায় ভারত।

এ প্রসঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গঙ্গা বাঁধ নিয়ে ইতোমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশই যৌথ কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির বিষয়ে দুই দেশই একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেছে। অবশ্য এ নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ আমরা করছি। কারণ এ বাঁধ নির্মাণ হলে ভারতে এর কী প্রভাব পড়বে তা জানতে হবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশের সমীক্ষা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশই কাজ করছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা চলছে। দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি নিয়েও। সব মিলিয়ে ২৪টির মতো সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও বিভিন্ন দলিল সই হতে পারে। এ সফরে আজমির শরিফ গিয়ে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির (রহ.) মাজার জিয়ারত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়ও এ সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে তিস্তা চুক্তি হোক বা না হোক প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তিস্তা চুক্তি হবে না বলে ধরে নেয়াটা ঠিক হবে না। আশা করছি এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’