মেইন ম্যেনু

ইতিহাসে আলোচিত কিছু সামরিক বাহিনী

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেরই আছে সামরিক বাহিনী। একটি দেশকে সবদিক থেকে সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ভীষন প্রয়োজন। পৃথিবীতে তাই মানুষের প্রয়োজনেই সেই অতীত থেকে আজ অব্দি তৈরি হয়েছে অনেক সামরিক বাহিনী। ধ্বংসও হয়েছে অনেকে। কিন্তু তাদের সবাইকে ইতিহাস মনে রাখেনি। কেবল হাতে গোনা কয়েকটি সামরিক বাহিনীই আছে যাদেরকে কেবল নিজ দেশের মানুষই নয়, মনে রেখেছে ইতিহাসের পাতাও। আর ইতিহাসের সেই আলোচিত আট সামরিক বাহিনী ও তাদের সাহসিকতাপূর্ণ আচরণকে নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

১. গ্রীক আর্মি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের একের পর এক ধাপ খুব সহজেই এগিয়ে যাওয়া দেখে এগিয়ে আসে ইতালিও। তখন দেশটির প্রধান ছিলেন মুসোলিনি। হিটলারের দেখাদেখি তিনিও গ্রীসে আল্টমেটাম পাঠান। এতে গ্রীসকে বলা হয় যেন নিজের কিছু অংশ বিনাবাক্যব্যয়ে তারা ইতালিকে দিয়ে দেয়। সবটা ঠিকঠাকই ছিল। কেবল সমস্যাটা বাধে একটি জায়গায়। গ্রীসের অংশ নিতে মুসোলিনির কোন সমস্যা ছিল না। তবে সেটা দিতে গ্রীসের বেশ অনাগ্রহ ছিল। এই আল্টিমেটামের জবাব দেয় গ্রীস সোজাসাপ্টা- তাহলে এটা যুদ্ধ! আর নিজেদের কথামতনই যুদ্ধে বেশ জোরেশোরে ঢুকে পড়ে তারা।

এতদিন অক্ষবাহিনীতে থাকলেও ততটা সক্রিয় ছিলনা গ্রীস। তবে ইতালির আল্টিমেটাম পাওয়ার পর তারা আক্রমণ করে বসে ইতালিকে আর খুব সহজেই অক্ষবাহিনীর জন্যে জয় এনে দেয়। এদিকে ইতালির অবস্থা দেখে তাকে সাহায্য করতে আসে বন্ধুপ্রতিম হিটলার। এর আগে গ্রীসের সাথে হিটলারের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এর মূল কারণ ছিল ব্যবসা। কিন্তু ইতালির আল্টিমেটাম আর আক্রমণ একইরকম দুই শত্রূর বিরুদ্ধে লড়াই করতে জাগিয়ে তোলে গ্রীসকে।

১৯৪০ সালের ২৮ অক্টোবর ইতালির আক্রমণকে ঠিকঠাকভাবে প্রতিহত করে গ্রীস। তাদেরকে দুই সপ্তাহ সময় দেয় আলবেনিয়া থেকে চলে যেতে। একটা সময় ইতালির অবস্থা বেশ করুন হয়ে পড়ে। তবে শেষ অব্দি এতকিছু করেও নিজেদের পতন ঠেকাতে পারেনি গ্রীস। ইতালি ও জার্মানির যৌথ পদক্ষেপে হারতে বাধ্য হয় দেশটি।

২. আলবেনিয়ান আর্মি

১৫ শতকে অটোমানদের ক্ষমতা বেশ ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতনই ছিল। তবে সেটা ছিল তাদের আলবেনিয়া আক্রমণের আগ পর্যন্ত। আলবেনিয়ান যোদ্ধা জর্জ কাস্ট্রিয়োটি ও স্ক্যানডারবার্গ তখন সুলতানের পক্ষে লড়ছিলেন। কিন্তু যেইমাত্র তাদের কানে আলবেনিয়া আক্রমণের খবর এল সেই তারা ছুটলেন নিজেদের জন্মভূমিতে। তাদের এই হঠাত্ চলে যাওয়ার খবর শুনে অটোমান থেকে ১০০,০০ জন যোদ্ধার একটি দল পাঠানো হল আলবেনিয়ায়। বলে দেওয়া হল স্ক্যানডারবার্গের আশ্রয়স্থল ক্রুজার দূর্গ ভেঙে দিতে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ততক্ষণে স্ক্যানডারবার্গ আর সবাইকে সাথে নিয়ে বেশ ভালো মানবযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আর তাদের অনেকেই ছিল সাধারন কৃষক।

অটোমান যোদ্ধারা ছিল সংখ্যায় অনেক আর তাদের অস্ত্রও ছিল অত্যাধুনিক ও প্রচুর সংখ্যক। তাদের অস্ত্রের কাছে আলবেনিয়ানদের অস্ত্র ছিল কামানের বিরুদ্ধে দেশলাইয়ের কাঠির মতন। কিন্তু প্রচন্ড মনোবল আর সাহস থাকায় অটোমানদেরকে হারিয়ে দেয় তারা। এতে তাদেরকে সাহায্য করে সেসময়ের ভযঙ্কর শীতও। এর পরের কয়েকবছর আলবেনিয়ানরা বেশকিছু স্থানে অটোমানদেরকে হারায়। নিজের সাধারন সামরিক বাহিনীকে নিয়ে পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেন স্ক্যানডারবার্গ। তবে সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কোন ইউরোপীয়ান দেশই রাজী হয়নি আলবেনিয়ানদের পক্ষে থাকতে বা তাদেরকে কোনরকম সাহায্য করতে। ফলে স্ক্যানডারবার্গের মৃত্যুর ১০ বছর পরে ১৪৭৮ সালে ক্রুজা দূর্গ অটোমানদের হাতে চলে যায়।

৩. সুইস আর্মি

যুদ্ধের ক্ষেত্রে দুই ধরনের পক্ষ থাকে সাধারনত। এক হচ্ছে যারা যুদ্ধ করে। আর অন্যরা হচ্ছে যারা করেনা। আর যারা যুদ্ধ করেনা তাদেরকে বলা হয় নিরপেক্ষ। আর পৃথিবীর প্রথম দুইটি নিরপেক্ষ দেশের ভেতরে অন্যতম একটি হল সুইজারল্যান্ড। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশটির যুদ্ধ নিয়ে কোন মাথাব্যথাই নেই। কিন্তু সেটা এখনকার কথা। ১৩১৫ সালে অস্ট্রিয়ার দ্বারা অধিকৃত ছিল সুইজারল্যান্ডের বেশকিছু স্থান।

তবে কিছুদিনের ভেতরেই দেশটির এই ক্যান্টনগুলো স্বাধীনতা চেয়ে বসে। আর তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য পাঠানো হয় ১৫ হাজার সৈন্য। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডের হয়ে লড়ার জন্যে ছিল মাত্র কিছু সংখ্যক কৃষক। তবে অস্ট্রিয়ান আর্মি দেশটির ভেতরে ঢুকতেই তাদেরকে পাহাড়ের সরু স্থান ধরে যেতে বাধ্য করে সুইস সেনারা। আর এরপর করে প্রচন্ড আক্রমণ। প্রায় ২,০০০ সৈন্যকে হারায় অস্ট্রিয়া। কোনমতে সেবার ফিরে আসে বাকীরা অস্ট্রিয়াতে। পরে সুইজারল্যান্ডকে আয়ত্ত্বে আনার জন্যে আবার আক্রমণ চালানো হলেও ব্যর্থ হয অস্ট্রিয়া। ১৪৪৬ সালে দেশটিকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দেয় তারা।