মেইন ম্যেনু

ইন্টারনেটের দাম কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এনটিটিএন, আইএসপি এবং মোবাইল অপারেটরদের তিনি এ নির্দেশনা দেন। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ এবং ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনপদে সহজে ও সুলভে তথ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছয় বছর আগে একটি মেধা ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ‌ডিজিটাল বাংলাদেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বাংলাদেশ সে পথে অনেক দূর এগিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে অভাবিত হারে। তথ্যপ্রযুক্তি জনগণের ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দুর্নীতি হ্রাস ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতেও নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিকে অনুষঙ্গ করে সময় ও অর্থের সাশ্রয় করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শোষণ, বঞ্চনা আর বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সুন্দর ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাই ছিল জাতির জনকের আজন্মলালিত স্বপ্ন। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড সে স্বপ্ন যাত্রাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।’ বর্তমান সরকার জাতির জনকের সেই স্বপ্ন পূরণে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য ভোক্তাদের ক্রয় সামর্থ্যের মধ্যে রাখা এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে এনটিটিএন, আইএসপি এবং মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দেন।

সভায় মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুতকরণ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ এবং, শিক্ষার্থীর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ ২০২১ সালের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি রোডম্যাপ প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দ্রুততম সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনগুলোর সংশোধন, অপরাধ তদন্ত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অত্যাধুনিক ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া সভায় হাই-টেক পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির কর্মকাণ্ডকে আরও গণমুখী ও গতিশীল করতে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

আইসিটি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সভায় মোবাইল ফোনের সিম ক্লোনিং, বেনামি ও অবৈধ সিম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বক্তৃতা করেন।

সভায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সাফল্য, গৃহীত কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনা ভিত্তিক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্যসচিব ও আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।