মেইন ম্যেনু

ইফতারে ভাজাপোড়া এবং সেহরিতে চা পান কি ঠিক?

ডা. সজল আশফাক : রোজায় ভাজাপোড়া খাবার প্রায় সবারই প্রিয়। কিন্তু এই ভাজাপোড়া জাতীয় ইফতারি গ্রহণের কারণেই অনেক রোজাদার শারীরিক অস্বস্তিকে ভোগেন বলে উল্লেখ করেছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণালব্ধ নিবন্ধ।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভাজাপোড়া খাবার, মসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার গ্রহণের কারণে অনেকেই রোজা রেখে শেষটায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে অধিকাংশই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে এক সঙ্গে এসব খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া ও ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। রোজা রাখার সময় যাতে এসিডিটি দেখা না দেয় তা প্রতিরোধের জন্য আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে পেট ফাঁপা যেমন প্রতিরোধ করে, তেমনি খাবারগুলোকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত করে। এতে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। এতে এসিডিটি দেখা দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য, রোজায় বাজারে তৈরি ভাজাপোড়া খাবারের অধিকাংশই ভাজা হয় পুরোনো তেলে। একই তেলে বার বার ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একই তেলে বার বার ভাজার কারণে এ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এই সব রাসায়নিক পদার্থ ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে পরিচিত। একইভাবে, ক্যানসারের আরেকটি উপাদান হচ্ছে রঙিন শরবতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং। ইফতারের পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শরীরে সারাদিনের পানি স্বল্পতা এবং শরীরকে দূষণমুক্ত করার জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে এই নিবন্ধে।

সেহরির পর অনেকেই চা পান করে থাকেন। চা অনেক উপকারী এ কথাও প্রায় সবার জানা। সেহরির পর চা পান থেকে বিরত থাকতে বলা একটি ভিন্ন কারণে। গবেষকরা বলেছেন, চায়ের মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এতে শরীরে খনিজ লবণ ও পানিস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে। এই পানিস্বল্পতা রোজাদারদের জন্য কাম্য নয়। বরং সেহেরির পর কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট। তবে কলা কারো কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য করে থাকে। সেক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাবার সাথে খেলে কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা নয়। রোজায় সুষম খাবার খেয়ে রোজা রেখে ইফতারের আগে হাত-পা সঞ্চালন জাতীয় হালকা ব্যায়াম এবং সময়মতো নামাজ আদায় করলেই অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রোজা থেকে ওজন কমানোর সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে এই নিবন্ধে। রোজার সময় গভীর নিদ্রার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ