মেইন ম্যেনু

ইবি’র চার শিক্ষকের নামে উকিল নোটিশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের নামে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়া না হলে মানহানি মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের একাংশ শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরকে মদদ দেওয়া, পিএইচডি জালিয়াতি, একাডেমিক ও আর্থিক দুর্নীতিসহ ১১ দফা অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সহ–উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৫ এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শিক্ষকদের করা ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের নামে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী সোহেল সাঈদ সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানের পক্ষে এ নোটিশ দেন।

উকিল নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ একাংশের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, শাপলা ফোরামের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে যে ১১ দফা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এতে করে অধ্যাপক শাহিনুর রহমানের দেশে-বিদেশে চরমভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আর্থিকভাবে এ ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তাই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। অন্যথায় ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাপলা ফোরামের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিন বলেন, ‘উকিল নোটিশ আমরা পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নোটিশের জবাব দেওয়া হবে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ একাংশের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া রহমান ও শাপলা ফোরামের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিনের পক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সহ–উপাচার্যের বিরুদ্ধে করা ওই ১১ দফা অভিযোগ–সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে তাঁরা সহ–উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের অপর অংশ ও আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুনুর রহমান এবং শাপলা ফোরামের অপর অংশের সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সেলিম তোহা স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষক নেতারা উপাচার্যের কাছে অন্য একটি অভিযোগ জানান। অভিযোগে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের অন্য পক্ষকে অনির্বাচিত ও অবৈধ ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষের নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।