মেইন ম্যেনু

ইভিএম : ৩ বছরেও দুর্নীতির কূলকিনারা পায়নি দুদক

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনায় দুর্নীতি ও ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ২০১৪ সালে আসা এসব অভিযোগ যাচাই শেষে অনুসন্ধানে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এসব অভিযোগের এখনো কোনো কূলকিনারা পায়নি সংস্থাটি।

এসব অভিযোগের কোনো ‘ক্লু’ না পাওয়ায় অনুসন্ধান কাজটি প্রায় স্থগিত আছে বলে জানালেন দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব অভিযোগের তথ্য সরবরাহে অসহযোগিতা ও বিলম্ব করায় অনুসন্ধানে এগোনো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্রে। তাই এই অনুসন্ধান কাজ সচল করতে শিগগিরই সরেজমিনে ইসিতে যেতে পারেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

দুদক সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি জরুরি ভিত্তিতে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে টাইগার আইটি (বিডি) নামক একটি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যাদেশ প্রদান এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুদকের উপ-পরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি অনুসন্ধানের শুরুতেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠান। তার পাঠানো চিঠিতে, ২০০৯-২০১০ সালে ইসি প্রথম পর্যায়ে ১৩০টি, ২০১০-২০১১ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০০টি ও ২০১১-২০১২ সালে তৃতীয় পর্যায়ে ৭০০টি ইভিএম ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, দাখিলকৃত দরপত্র, তুলনামূলক বিবরণী, কার্যাদেশ, সরবরাহের প্রমাণপত্র ও বিল ভাউচারসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছিল। এসব চিঠির পরিবর্তে ইসি দুদককে কোনো তথ্য না দিয়ে, বরং বিলম্ব করে সময় চায়। তাই তথ্য-উপাত্ত সরবারহ না করায় এসব অভিযোগের অনুসন্ধান কাজ থেমে থাকে।

এদিকে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা-কাটায় দুর্নীতির অভিযোগ আসলে তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক বর্তমানে উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলমকে দায়িত্ব দেয় কমিশন। অনুসন্ধানের শুরুতেই তিনিও ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি ইসির সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সরবরাহের নোটিশ দেন। নোটিশে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মোট এক হাজার ২৩০টি ইভিএম কেনার যাবতীয় রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহ করতে বলা হয়। যেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র দিতে না পারায় এই অংশের অনুসন্ধান কাজও থেমে যায়।

দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান শনিবার রাত ৮টায় এ বিষয়ে বলেন, ‘এসব অভিযোগের অনুসন্ধানেই আমরা নেমেছিলাম। তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রমাণাদি না পাওয়ায় অনুসন্ধান কাজটি প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি পাই তাহলে আবার পুনরায় অনুসন্ধান কাজ শুরু করা হতে পারে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করা হয়নি। তবে বলা যায়, অনুসন্ধান কাজটি প্রমাণ না পাওয়ায় এক প্রকার থেমে আছে। সময়মতো আবারো চালু করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বারবার চাওয়ার পরও ইসি তা সরবরাহ করতে না পারায় অনুসন্ধান কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। তাদের নির্বাচনী ব্যস্ততাসহ নানাবিধ কারণ দেখিয়ে তথ্য প্রদানে বিলম্ব করে। তথ্য প্রমাণ না থাকায় এসব অভিযোগ যথাযথ কি না তাও প্রমাণ করতে পারছেন না অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

তাই এবার আর তাদের আশায় না থেকে অনুসন্ধান কাজগুলো সচল করতে উপ-পরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও মুহা. মাহবুবুল আলম অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ইসিতে যেতে পারেন বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান।