মেইন ম্যেনু

ইমরুলের বিদায়, বিপদে বাংলাদেশ

৩১০ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে এত রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু শুধু ইমরুল কায়েসই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ইমরুল করেছেন ১১২ রান। সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৫ বলে ৭৯ রানের ইনিংস। ৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ২৮০ রান। জয়ের জন্য এখনো প্রয়োজন ৩০ রান।
নিজের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা দিয়ে শুরু করেছেন ইমরুল, পঞ্চম বলেই চার। প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্মটা আজও টেনে এনেছেন ইমরুল। কিন্তু অন্য প্রান্তে তামিম কোনোভাবেই ছন্দ ফিরে পাচ্ছিলেন না। দশম ওভারেই ফিরলেন তামিম, বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪৬। সাব্বির রহমানকে নিয়ে ঝোড়ো এক জুটিতে বাংলাদেশকে আশা দেখালেন ইমরুল। কিন্তু ডেভিড উইলির অসাধারণ এক ক্যাচে ফিরলেন সাব্বির, ২৫ বলে ৩৬ রানে থামল সে জুটি। এরপর উইকেটে এসে ফিরেও গেলেন মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমরা। কিন্তু ব্যতিক্রম হিসেবে বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছেন ইমরুল। ৮৬ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা তাঁর। একটু আগে পাওয়া পেশির টানটাই ঝামেলা হয়ে না দাঁড়ালে হয়। সঙ্গী সাকিবের সংগ্রহ ১২ রান।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড ভালো শুরুই করেছিল। মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলেও দিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬৩ রান তুলতে না তুলতে ইংল্যান্ডের তিন উইকেট নেই। সেখান থেকে দুই বেন ঘুরিয়ে দিলেন ম্যাচের মোড়। বেন স্টোকস ও বেন ডাকেট। তাঁদের ১৫৩ রানের জুটিতে দাঁড়িয়েই সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ইংল্যান্ড তুলল ৮ উইকেটে ৩০৯ রান। এত বেশি রান তাড়া করে এর আগে মাত্র দুবার জিতেছে বাংলাদেশ। তিন শর বেশি তাড়া করে জেতার অভিজ্ঞতাও আছে—সব মিলিয়ে মাত্র তিনবার। কঠিন চ্যালেঞ্জ, সন্দেহ নেই।
স্টোকস ১০০ বলে ১০১ করে ফিরলেন। এ ম্যাচেই অভিষিক্ত ডাকেট ফিরলেন ৬০ রান করে। ঠেসে ধরে ইংল্যান্ডের রানের চাকার গতি কমিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অধিনায়ক জস বাটলারের ৩৬ বলে ৬৩ ইংল্যান্ডকে বড় পুঁজিই এনে দিল শেষ পর্যন্ত। শেষ ১০ ওভারে ৮৯ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। মাশরাফি, শফিউল, সাকিব—তিনজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশ শুরুর দিকে ধাক্কাটা ভালোই দিয়েছিল। এর মধ্যে ৬১ আর ৬৩ রানে ইংল্যান্ড হারিয়েছে দুই ব্যাটসম্যান। এই ম্যাচেই অভিষিক্ত ডাকেট বেশ ভালোই সামলে নিলেন। তবে চড়াও হলেন স্টোকস। ডাকেটও অভিষেকে ৫০+ ইনিংস খেলা ২১ তম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হয়েছেন। অভিষেকে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ইংলিশ হওয়া হয়নি। তবে স্টোকস ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি।
দুটি উইকেট এসেছে রান আউট থেকেও। এর একটি সাব্বিরের সরাসরি থ্রোয়ে। তবে স্কোর কার্ড কিন্তু ভুল বার্তাই দিচ্ছে। আজ বাংলাদেশ তিনটি নিশ্চিত ক্যাচ ফেলেছে। এর মধ্যে আরও গোটা কয় হাফ চান্স তো ছিলই।
সাব্বিরের মতো ফিল্ডিং কিন্তু তাঁর খুব কম সতীর্থই দেখাতে পারছেন। স্টোকসের ক্যাচই পড়েছে দুইবার। পরে ডাকেটেরও ক্যাচ ফেলেছেন মোশাররফ হোসেন। মোশররফ এর আগেও একটি ক্যাচ ফেলেছেন। বল হাতেও ৩ ওভারে দিয়েছেন ২৩ রান। আট বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই যে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন, গত দুই ম্যাচেই সেটা ফিকে হতে চলেছে। তাসকিনও বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফেরার পর নায়ক হয়ে যাওয়ার স্মৃতিটা ভুলিয়ে দিচ্ছেন।