মেইন ম্যেনু

ইমেইল আপনাকে যে তথ্য দেয়

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ হয়ে রয়েছে ইমেইল। এর সঙ্গে এমনভাবে মানুষ জড়িয়ে গেছে যে, কোনো মানুষের স্বভাব-চরিত্র ফুটে ওঠে ইমেইলে। ইনবক্সে যেসব ইমেইল আসে তার সঙ্গে আমাদের আবেগ, ক্ষোভ এবং মানসিকতার নানা দিক উদ্ভাসিত হয়। তাই কারো ইনবক্সে নজর বুলালেই জানা যাবে, ওই মানুষটি আসলে দারুণ উৎপাদনশীল কর্মী, নাকি কোনো সাইকোপ্যাথ।

১. এক ধরনের মানুষ আছেন যারা ইনবক্সে ইমেইল আসামাত্র তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ইমেইলটি পড়েন, প্রয়োজনে জবাব পাঠান। এরপর হয় তা মুছে ফেলেন অথবা আর্কাইভ করে রাখেন। এ ধরনের কাজ যারা করে থাকেন তারা প্রায়ই শংসয়গ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার মস্তিষ্কে ইমেইলের ইতিহাসটি সংরক্ষিত হয়ে থাকে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তেমনটাই জানান মনোবিজ্ঞানী এবং ‘আইডিসঅর্ডার : আন্ডারস্ট্যান্ডিং আওয়ার অবসেশন উইথ টেকনলজি অ্যান্ড ওভারকামিং ইটস হোল্ড অন আস’ বইয়ের লেখক ল্যারি রোজেন। এ ধরনের মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে কাজ করে যে, না পড়া ইমেইল দেখলেই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রচুর না পড়া ইমেইল দেখামাত্র তাদের মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং দেহে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। এই হরমোন মানসিক পীড়া সৃষ্টি করে। তাই ইমেইল নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা আসতে হবে আন্তরিক চাওয়া থেকে। ইনবক্স উপচে পড়লে এদের মধ্যে পাগলামী শুরু হয়। এ অবস্থা সামাল দিতে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীন উপায় খুঁজে বের করতে হয়। ২. আরেক দলের মানুষ আছেন যাদের ইমেইলে অল্প সংখ্যক ইমেইল না পড়া অবস্থায় থাকে। পড়ার পর খুব কম মেসেজ মুছে ফেলেন তারা। মিডিয়া সাইকোলজি সেন্টারের পরিচালক পামেলা রাটেলজ জানান, ইমেইল সংরক্ষণ করার পেছনে কিছু অর্থপূর্ণ কারণ রয়েছে। আইডিয়ার সঙ্গে মেলে বা অন্য ধাঁচের কিছু আসলেও তারা সংরক্ষণ করে রাখাতে চান। দূর ভবিষ্যতেও এসব ইমেইল কোনো কাজে আসতে পারে বলে মনে করেন তারা। তবে ইমেইল জমিয়ে রাখার অর্থ হলো, যেখান থেকে ইমেইল এসেছে তাদের সঙ্গে কোনো না কোনো সময় পরিচয় হবে বলেই ধরে নেন তারা। এটা এক ধরনের বিভ্রান্তি যা ঘটবে কি ঘটবে না তা তারা নিজেও জানেন না। আবার তারা এও ভেবে রাখেন যে, ভবিষ্যতে এর জবাব দেওয়ার বা নতুন কিছু জানার দরকার হতে পারে। ৩. তৃতীয় দলে যারা আছেন তারা ইমেইল এড়িয়ে যান। ‘দ্য বেস্ট প্লেস টু ওয়ার্ক : দ্য আর্ট অ্যান্ড সায়েন্স অব ক্রিয়েটিং অ্যান এক্সট্রাঅর্ডিনারি ওয়ার্কপ্লেস’ বইয়ের লেখক রন ফ্রিডম্যান জানান, ইমেইলকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার মতো বহু মানুষ রয়েছেন। ইনবক্সে শত শত ইমেইল পড়ে থাকা সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক। এগুলো দেখার ভয়ে অনেকে তা এড়িয়ে যেতে চান। তবে এ স্বভাব প্রকাশ করে যে, আপনি এলোমেলো এবং অগোছালো। আবার এ অর্থও প্রকাশ করে যে, ইমেইল সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে কিংবা এগুলো নিয়মিত পড়ে আপনার কোনো সুবিধা হচ্ছে না। এ ধরনের কিছু অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি গোছালো হয় উঠতে পারেন। ইমেইল মূলত প্রেরকদের কাছে আপনার গুরুত্ব তুলে ধরে। সব ইমেইলের অর্থ এমন নয় তা এখোনি দেখতে হবে। নয়তো মহাবিপদ।