মেইন ম্যেনু

ইমেজ ধরে রাখতে পারতেন কি ৪৪ বছর বয়সী সালমান শাহ?

কালজয়ী নায়কের তকমা তাঁর নামের পাশে। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে এত তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা আর কোন নায়ক পান নি।দেশে-বিদেশে এমন অর্জন বিরল।

এই অমর নায়কের আজ জন্মবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে সালমান শাহ’র বয়স হতো ৪৪ বছর। বেঁচে থাকলে আজও কি তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন? ধরে রাখতে পারতেন সেই ইমেজ? সালমান ভক্তরা কি আজও মুগ্ধ হতো তাঁর অভিনয়ে? নাকি অনেক আগেই বয়সের ভারে সাবেক তারকাদের খাতায় নাম লিখিয়ে অথবা ভাই বা বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করতেন! ভাবা যাচ্ছে না। ভাববার বিষয়ও না এটা।

তবে এতটুুকু ধারণা তো আমরা করে নিতেই পারি, সেই সময়ে সালমান শাহ যে স্টাইল, যে কারিশমা দেখিয়ে গিয়েছেন আজও হয় তো একই ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। সালমান শাহ বেঁচে থাকলে বাংলা চলচ্চিত্রও হয় তো শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খানদের মতো একজন চিরসজীব তারকা পেতো।

বাংলা চলচ্চিত্র সেরকম সজীব নায়ক আদৌ কি পেত? এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টানা যাক-
সালমান তাঁর জীবদ্দশায় একবার ভারতে গিয়ে শাহরুখ খানের পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলে এনেছিলেন। সে ছবিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন সালমান শাহ ও শাহরুখ খান। যেখানে শাহরুখের চেয়ে সালমানকেই বেশি স্টাইলিশ আর উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। শাহরুখ আজও তাঁর ইমেজ ধরে রাখতে পারলে সালমান কেন পারতেন না। হয়তো পারতেন।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবি কে না দেখেছে, এই ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমীর অভিনয় কি হিন্দি ছবি ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর আমির ও জুহিকে ছাড়িয়ে যায় নি? জানিনা কার কি মত, তবে আমি মনে করি আমির খান আর জুহি চাওলার চেয়ে সালমান আর মৌসুমীই ছিলেন এগিয়ে। দুটি ছবি পাশাপাশি দেখলে আপনিও হয়তো তাই বলবেন।

আপাতত এ দুটি উদাহরণই থাক।এ দুটি উদাহরণই প্রমাণ করে সালমানের সক্ষমতা।বাকিটা নির্ভর করতো তাঁর সদিচ্ছা আর লড়াইয়ের উপর।আমরা বিশ্বাস করতে চাই সালমান বেঁচে থাকলে বাংলা চলচ্চিত্রের এই করুণ দশা কখনোই হতো না।

সালমান শাহ-এর ৪৪তম জন্মবার্ষিকী’তে তাঁর আত্মার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।