মেইন ম্যেনু

ইলিশ উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা

গত বছর ২ লাখ ৪ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবছর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ১ দশমিক ৭৯ ভাগ ডিম কম ছাড়ায় দেশের ইলিশ অঞ্চলে এবার প্রায় দুই হাজার কোটি ইলিশ পোনা উৎপাদন কমেছে। মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে এ বছর মা ইলিশের আগমন কমছিলো। ফলে ডিমও কম ছেড়েছে। একারণে ইলিশ উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় গত ৫ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ অঞ্চলের ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিলো।এদিকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে তাদের পাঁচটি টিম ভোলার মনপুরা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চাঁদপুরের নদীতে অবস্থান করে।

ইলিশের এ প্রজনন মৌসুমে ৮০ভাগ মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিঠা পানিতে আসে। ওইসময়ে একটি মা ইলিশ নদীতে এসে প্রায় ৫ থেকে ২০ লাখ ডিম ছাড়ে। এবার ডিমওয়ালা ইলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কম এসেছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, নদীর বিভিন্নস্থানে চর জেগে উঠে নাব্যসঙ্কট তথা জলবায়ুর পরির্বতন ও নির্বিচারে শিকারের কারণে ইলিশ গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান আরও বলেন, তাদের গবেষণা অনুযায়ী এ বছর ৩৫ থেকে ৩৭ ভাগ পর্যন্ত মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ৩৮ দশমিক ৭৮ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছিল। ২০১৩ সালে ডিম ছেড়েছি ৪১ দশমিক ২ ভাগ মা ইলিশ। তিনি বলেন, গবষেণা অনুযায়ী এ বছর প্রায় ২৩ হাজার থেকে ২৪ হাজার কোটি পোনা ইলিশ হতে যাচ্ছে।

তবে ২০১৪ সালে যুক্ত হয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার কোটি ইলিশের পোনা। সে অনুযায়ী এবার প্রায় ২ হাজার কোটি ইলিশের পোনা উৎপাদন কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

এবার নিষেধাজ্ঞার সময়কাল বেশি হওয়া সত্বেও মা ইলিশ কম ডিম ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ভোলার মনপুরার মেঘনা মোহনায় অবস্থান করেছেন। তিনি পর্যবেক্ষণে দেখেছেন, বিভিন্ন বাঁধার কারণে মনপুরার পশ্চিম পাশের সাকুচিয়া, জনতা, হাজিরহাট মোহনায় গত বছরের চেয়ে কম ইলিশ দল বেঁধে এসেছে। শুরুতে ডিমও ছেড়েছে কম।

মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালে ১ হাজার ৩৮৭টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১১টন ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদেরও ধারণা ছিল এবার ইলিশ উৎপাদন কমবে।

পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক বাবুল মীরা বলেন, সম্প্রতি একসভায় ইলিশ কম আসার কারণ হিসেবে সাগর সংলগ্ন নদী ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন অনেকেই।

কেউ কেউ আবার ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব মেঘনা নদীতে পড়ায় বিশেষ করে ভোলা বিভিন্নস্থানে চর জমে গেছে বলে মনে করেন। যে কারণে নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবছর এভাবে ইলিশ পোনা কমার বিষয়টি মৎস্য বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

পোনা কমলে ইলিশ উৎপাদনও কমবে বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপাওে ভোলার মৎস্য অধিদফতরের মাধ্যমে মৎস্য অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বজলুর রশিদ জানান, তারা প্রতিবছরই ১০ থেকে ১২ ভাগ ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তার পরেও কেন ইলিশের পোনা কমছে তার গবেষণা চলছে। বলেও তিনি উল্লেখ করেন।